
| Headline : |
|
মায়ের আদেশে প্রতিদিন পাঁচজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার
।। বার্তা প্রস্তুত:- সায়েক আহমদ, সহকারী সম্পাদক, শিক্ষাতথ্য ডটকম।
|
|
দৈনিক
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (১৪
আগস্ট, ২০২৬) :-
অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা নাক, কান ও গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে তিনি দেশের দূরদূরান্ত ও গ্রামীণ এলাকায় বিনামূল্যে ‘ইএনটি মেডিকেল ক্যাম্প’ পরিচালনা করে থাকেন। এই ক্যাম্পগুলোতে দরিদ্র ও দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাপত্র, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। দরিদ্র পরিবারের জন্মগত বধির বা জটিল নাক-কান-গলার রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সুলভ বা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরিতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মূক ও বধির শিশুদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনার আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অসচ্ছলদের সহায়তায় কাজ করে থাকেন। টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদপত্রে নিয়মিত নাক, কান, গলা ও থাইরয়েডের জটিলতা, প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া ধূমপান ও পানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গলার ক্যান্সার প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কার্যক্রমে তিনি সক্রিয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BSMMU) অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের শুধু পাঠদানই নয়, বরং মানবিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামীণ পর্যায়ে বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের নাক, কান ও গলারোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানে অবদান রেখে চলছেন। অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার বৃহত্তর সিলেটের অধিবাসীদের কল্যাণার্থে পরিচালিত বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম, শীতবস্ত্র বিতরণ ও শিক্ষাবৃত্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। বিশিষ্ট নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার এর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন দৈনিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার সহকারী সম্পাদক সায়েক আহমদ। এখানে তাঁর সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো : সায়েক আহমদ : সিলেট বিভাগের অসহায় ও গরীব রোগীদেরকে আপনি বিভিন্নভাবে সহায়তা করে থাকেন। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? ডা. কামরুল হাসান তরফদার : আমার আম্মা আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন প্রতিদিন পাঁচজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য। এ কারণে আমি অদ্যাবধি আমার আম্মার আদেশ পালন করে আসছি। সায়েক আহমদ: জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যসেবা খাতে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি? ডা. কামরুল হাসান তরফদার: জালালাবাদ এসোসিয়েশন শুরু থেকেই মানবসেবায় নিয়োজিত। সভাপতি হিসেবে আমার অন্যতম মূল লক্ষ্য থাকবে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের পরিধি বাড়ানো, বিশেষ করে জটিল রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা। সায়েক আহমদ: দেখা যায় অনেক গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নাক, কান ও গলার রোগ অবহেলা করেন। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী? ডা. কামরুল হাসান তরফদার: সচেতনতার অভাবই এর মূল কারণ। কান দিয়ে পানি পড়া বা গলার ছোট কোনো গুটি অনেক সময় অবহেলা থেকে জটিল ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। আমাদের বার্তা খুব স্পষ্ট—প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতন হোন এবং হাতুড়ে ডাক্তার না দেখিয়ে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সায়েক আহমদ: ঢাকায় বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসীদের কল্যাণে আপনার সংগঠন কীভাবে কাজ করছে? ডা. কামরুল হাসান তরফদার: ঢাকায় আমাদের যেসব সিলেটবাসী থাকেন, বিশেষ করে যারা অর্থাভাবে চিকিৎসা বা শিক্ষার সুযোগ পান না, জালালাবাদ এসোসিয়েশন সর্বদা তাদের পাশে দাঁড়ায়। আমরা চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেধা বৃত্তির ব্যবস্থাও নিয়মিত চালু রেখেছি। সায়েক আহমদ: ব্যস্ততম চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি এ ধরনের বিশাল সামাজিক দায়িত্ব সামলানোর অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে? ডা. কামরুল হাসান তরফদার: পেশাগত দায়বদ্ধতা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের ভালোবাসার ঋণ। সিলেটের মাটির সন্তান হিসেবে নিজের শেকড় ও মানুষের জন্য কিছু করতে পারার তৃপ্তিই আমাকে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করার সাহস যোগায়। সায়েক আহমদ: এত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেয়ার জন্য দৈনিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ডা. কামরুল হাসান তরফদার: আপনাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। |