
| Headline : |
|
সরিষাবাড়ীতে ৬৫ লাখ টাকা এডিপির বরাদ্দের সিংহভাগ হরিলুটের অভিযোগ
বার্তা প্রেরক:- সোলায়মান বাবু, সরিষাবাড়ী, জামালপুর । শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২৩ ডিসেম্বর, ২০২০) :-
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার এডিপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতি’র মাধ্যমে সরকারী বরাদ্দের সিংহভাগ হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ হরিলুটে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রকিবহাসান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে এ প্রকল্পের নাম মাত্র কাজ করে সিংহভাগই আত্নসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানাযায়। কাজের সময়সীমা ৪৫ দিন ধরা হলেও দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ না করায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলার এডিপি আওতায় ১২টি প্রকল্পের ২৪টি প্যাকেজ বাবদ ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৬০৮ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্যাকেজের মধ্যে ভাটারা ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার নূর মোহাম্মদ স্যারের বাড়ী হতে নওশের মন্ডলের বাড়ীর মসজিদ হয়ে তিতপল্লা ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত ইটের রাস্তা নির্মাণ ও ভাটারা জয়নগর মেইন রাস্তা হতে আব্দুল হালিমের বাড়ী পর্যন্ত এইচ বিবি দ্বারা রাস্তা উন্নয়ন বাবদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভাটারা ইউনিয়নের চৌখা গ্রামের কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ও কামরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নলকূপ স্থাপন বাবদ ৩ লাখ টাকা। ডোয়াইল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ডোয়াইল দক্ষিণপাড়া হাজীবাড়ী জামে মসজিদের উন্নয়ন ও ডোয়াইল বিভিন্ন ওয়ার্ডে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুঃস্থ পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন এবং ডোয়াইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চর হাটবাড়ী নূরুর মোড় হতে বড়বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা অসমাপ্ত অংশের এইচ বিবি করন বাবদ ৬ লাখ ১শ ১টাকা। পোগলদিঘা ইউপির ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত চকপাড়া মজিবরের বাড়ী হতে পূর্ব দিকে চকপাড়া মক্তব ঘরের পশ্চিম পাশের্^ পাকা রাস্তা পর্যন্ত হেরিং বন্ড রাস্তা নির্মাণ ও অত্র ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বয়ড়া বাজার হামিদ মোল্লার দোকান হতে উত্তর দিকে গাছ বয়ড়া বাধ পর্যন্ত পাকা রাস্তা সংস্কার করন বাবদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরমানন্দপুর ডোয়াইল কাজী সদর গ্রামের যৌথ ঈদগাহ মাঠের মিনার নির্মাণ ও পিংনা ইউপির বাঘাছড়া আব্দুস সাত্তার বাড়ী হতে খন্দকার মোতাহার চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় প্যালাসাইডিং নির্মাণ বাবদ ৫ লাখ ১ হাজার ৩শ ২২টাকা। মহাদান ইউপির বন গ্রাম ঈদগাহ মাঠের পূর্ব পাশের্^ গাইটওয়াল নির্মাণ ও নলদাইর কাদের ফকির, হোসনাবাদের লতিফ, বিলবালিয়া শাহিন, খাগুরিয়া ম্যালেটারি বাড়ী সংলগ্ন মসজিদ বাবদ ৪ লাখ ৫০ হাজার ১৮৫ টাকা। উপজেলা কৃষি অফিস ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের জন্য কীটনাশক ছিটানোর জন্য স্প্রে মেশিন ও ফুট আপ মেশিন ক্রয় ও মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন বাবদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আওনা ইউনিয়নের এডভোকেট মতিয়র রহমান কলেজে শহিদ মিনার নির্মাণ বাবদ ১২ লাখ টাকা। আওনা ইউনিয়নের কাবারিয়াবাড়ী কবর স্থানের শেড ঘর নির্মাণ বাবদ ৩ লাখ টাকা। সাতপোয়া ইউনিয়নের চর জামিরা সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য মিনি খেলাধূলার পার্ক স্থাপন বাবদ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। উত্তর চুনিয়াপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহিদ মিনার নির্মাণ ও ছাত্র/ছাত্রীদের দোলনা স্থাপন বাবদ ৪ লাখ টাকা। আওনা ইউনিয়ন কাবারিবাড়ী স্কুলের সামনে ঝিনাই নদীতে বাংলা মাছ প্রজননের জন্য মাছের অভয় অরন্য নির্মাণ ও কামরাবাদ ইউপির ঝিনাই নদীর র্যালি কুঠি ব্রীজ সংলগ্ন মাছের অভয় অরন্য নির্মাণ বাবদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের মেয়াদ ৪৫ দিন হলেও দীর্ঘ ৬ মাস পার হলেও প্রকল্পের কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ এলাকার জনগনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী এডিপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতি’র মাধ্যমে সরকারী বরাদ্দের সিংহভাগ হরিলুট ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রকিব হাসান জানান, এডিপি’র টাকা আত্নসাত করা হয়নি। তবে যে সব ঠিকাদার কাজ করেনি তাদের টাকা উত্তোলন করে রেখে দেয়া হয়েছে। কাজ করলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ এর কার্যালয়ে সাক্ষাতে কথা হলে তিনি জানান, যে সব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়নি সে সব প্রকল্পের বিপরীত অর্থ উত্তোলন করে রেখে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিল পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান। |