
| Headline : |
|
মাইনসের উপকার হবে বলে কথা
ভিক্ষার চল্লিশ হাজার টাকা মসজিদে দান : শেফালি পায়নি সরকারি বিশেষ বরাদ্দের ঘর
বার্তা প্রেরক:- গোলাম তোফাজ্জল কবীর মিলন, বাঘা, রাজশাহী। শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (১৭ নভেম্বর,
২০২০) :-
মানুষের উপকার হবে বলে,ভিক্ষার টাকা জমিয়ে মসজিদে দান করেছেন শেফালি খাতুন। ভিক্ষার টাকায় প্রতিদিনের খরচ চালানোর পর,অবশিষ্ট টাকা জমিয়ে এরই মধ্যে চল্লিশ হাজার টাকা দান করেছেন, মহানুভবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ভিক্ষুক শেফালি। যার সত্যতা পাওয়া গেছে মসজিদ কমিটির সাথে কথা বলে।এই ভিক্ষুেকর নাম শেফালি খাতুন। বয়স প্রায় ৩৮ বছর । গ্রামের লোক তাকে ডাকেন শেফা পাগলি বলে। শেফালির শারিরীক সমস্যা রয়েছে, কথা বলেন তোতলা তোতলা। চলেন লাঠির ওপর ভর করে। ৭ মাসের অন্তস্বত্তা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিছিন্ন হয়ে এখন সংসার চালান ভিক্ষা করে। আর দিনে দিনে ভিক্ষার জমানো চল্লিশ (৪০) হাজার টাকা করেছেন বাঘা পৌর এলাকার দক্ষিন গাওপাড়া জামে মসজিদে। তার ইচ্ছা এবার আবার ভিক্ষার টাকা জমিয়ে দান করবেন,মাদরাসা ও এতিমখানায়। ভিক্ষুক এই শেফালির বাড়ি বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের ব্রাম্মনডাঙ্গা গ্রামে। বাঘা বাজারে বুলবুলের চায়ের দোকানে ভিক্ষা করতে আসা শেফালি ওরফে শেফা পাগলিকে দেখে, সেখানে বসে থাকা দক্ষিন গাওপাড়া গ্রামের রুপচান নামের একজন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিবেদককে বললেন,তার গ্রামের গোরস্থানে, জামে মসজিদে মাইক ও ফ্যান কেনার জন্য অনেক টাকা দান করেছেন এই ভিক্ষুক। ওই দোকানে তার ভিক্ষা চাওয়াটা ছিল এইভাবে,ভাই কয়েকটা টাকা দেন। নিজের সংসারে খরচ করে যা বাঁচবে,সেই টাকা জমিয়ে মাদরাসা ও এতিমখানায় দিবো । বুলবুলের চায়ের দোকানে কথা হলে শেফালি জানান, এতো টাকা কি হবি, আল্লাহর ঘরে দান করলে মাইনসের উপকার হবি,পরকালে শান্তি পাওয়া যাবি। দিনে দিনে ভিক্ষার টাকায় সংসার চালিয়ে, ওই চল্লিশ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন মসজিদ কমিটির হাতে। সরেজমিন, তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল ঘরের দরজায় তালাবদ্ধ। তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী রঞ্জনা জানান, ভিক্ষার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে সকালে বের হয়, ফিরে সন্ধ্যার আগে। বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া প্রায় ১কাঠা জমিতে ঘর তুলে কোন রকমে বসবাস করেন। তার পরেও নিজের চিন্তা না করে ভিক্ষার জমানো টাকা দিয়েছেন মসজিদে। জমি থাকলেও পাননি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের সরকারি সেই ঘর। তবে,সরকারি সুবিধা বলতে প্রতিবন্ধী ভাতা পান তিনি। গ্রামের রেজাউল জানান, তার বাবা মসলেম প্রামানিক ছিলেন দিনমজুর। মায়ের মৃত্যুর পর বেড়ে উঠেন বাবার আশ্রয়ে। বাবা বেঁচে থাকতে বিয়ে দিয়েছিলেন,মানষিক ভারসাম্যহীন এক ছেলের সাথে। এ বিয়ের পর,৭ মাসের অন্তস্বত্তা অবস্থায় স্বামীর সংসার থেকে বিছিন্ন হন। তার পর থেকেই ভূমিষ্ট সন্তানকে নিয়ে সংসার চালান ভিক্ষা করে। বাঘা পৌর সভার দক্ষিন গাওপাড়া গোরস্থান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি সামসুজ্জোহা সরকার ও মসজিদের সার্বিক ত্বত্তাবধানে থাকা মোয়াজ্জেম রফিকুল ইসলাম জানান, দফায় দফায় সর্বমোট চল্লিশ হাজার টাকা দিয়েছেন শেফালি। সেই টাকা দিয়ে মসজিদের মাইক,ফ্যান ও টাইলস কেনা হয়েছে। তারা বলেন মহানুভবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ভিক্ষুক শেফালি। |