মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা ২০০৮ সাল থেকে প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত হচ্ছে যার রেজি: ডি.এ. নাম্বার: ৫০৮৫, ঢাকা
প্রিন্টিং সংস্করণ
শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সায়েক আহমদ
প্রধান শিক্ষক, বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়
Published : Tuesday, 6 October, 2020 at 1:29 PM
সায়েক আহমদ
প্রধান শিক্ষক
বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার


জনাব সায়েক আহমদ-এর জন্ম মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শমশেরনগরে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৯ সালের ২০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. শামসুদ্দিন আহমদ, যিনি সিভিল এভিয়েশনের একজন এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (টেকনিক্যাল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিভিল এভিয়েশনে যোগদান করার পূর্বে তিনি ৩ বছর শিক্ষকতা করেছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুস শহীদসহ অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দিন আহমদ এর ছাত্র ছিলেন। শামসুদ্দিন আহমদ ২০১২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। সায়েক আহমদ এর মাতা হাসনা আহমদ (বীণা) একজন সুগৃহিণী। তার দাদা আলহাজ্ব মো. কোরবান আলী অবিভক্ত ভারতের একজন প্রজাপ্রিয় ক্ষুদ্র জমিদার ছিলেন। দাদী শাবান বিবিও একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান ছিলেন। 

জনাব সায়েক আহমদ এর নানা আব্দুল ওয়াহেদ রেজভীর পিতা আব্দুল আজহার রেজভী ছিলেন এক প্রখ্যাত খানদানি পরিবারের বংশধর। তাঁর পূর্বপুরুষ বসত পত্তন করেছিলেন রাজনগর উপজেলার মেলাঘর মৌজায়। সেটা ১৮৪০ সালের পূর্বের ঘটনা। জায়গা বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন ব্রিটিশদের নিকট থেকে। কিন্তু রেজভীর পূর্বপুরুষদের প্রতাপে জর্জরিত হয়েছিল সেই এলাকা। রেজভীর পিতামহের অকালমৃত্যুতে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটল। রেজভীর বিখ্যাত ক্রোড়ী বংশজ বিধবা দাদী পড়লেন মহাবিপাকে। অবশেষ তিনি রেজভীর পিতাকে নিয়ে চলে এসেছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর গ্রামে। এখানেই জন্ম হয়েছিল চল্লিশের দশকের মুসলিম কবি আব্দুল ওয়াহেদ রেজভীর। তিনি ১৯৪২ সালের ৩ মার্চ ব্রিটিশ আর্মির ওয়ারেন্ট অফিসার পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন সিভিলিয়ান ক্লার্ক হিসেবে ২য় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উক্ত সময়ে তিনি ইটালি, মিশর, ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে যুদ্ধের অগ্রবর্তী দলের সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি প্রচুর কবিতা লিখেছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ রেজভী সম্বন্ধে বলেছিলেন, ‘চল্লিশের দশকে মুসলিম কবিদের দুর্ভিক্ষের সময় অন্তরালের কবি আব্দুল ওয়াহেদ রেজভী এক চিরবিস্ময়। ‘বিশ্বযুদ্ধে রোমাঞ্চ’ নামে একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থও রচনা করেছিলেন কবি আব্দুল ওয়াহেদ রেজভী।

সায়েক আহমদ এর নানী চৌধুরী আমিরুন্নেছা খানম ছিলেন ভাদেশ্বরের জমিদার ছলিমউল্ল্যাহ এর বংশধর। উল্লেখ্য, জমিদার ছলিমউল্ল্যাহ কমলগঞ্জ উপজেলায় বসতি স্থাপন করেন এবং ছলিমগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। সায়েক আহমদ এর দুই ভাই-শোয়েব আহমদ মিঠু ও সফি আহমদ টিপু স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। শোয়েব আহমদ এর নিহাদ নামে একটি ছেলে এবং সফি আহমদ এর হাফসা নামে একটি মেয়ে রয়েছে। ছোট বোন সাবিহা নাসরিন সাকী (আমেরিকা প্রবাসী)। সাকীর ফারিহা নামে এক মেয়ে ও ফাহিম, মেহরাব ও আব্দুল্লাহ নামের তিন ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বোন শাবানা জেসমিন লাকী নিঃসন্তান। ছোট বোন শারমিন আহমদ মূসা নামের এক সন্তানের জননী। তার স্বামী সৈয়দ মঈনউদ্দীন সাবেক আইজি (প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের চাচাতো ভাই। সায়েক আহমদ এর স্ত্রী জেসমিন আহমদ একজন সুগৃহিণী। রান্নায় তার দক্ষতা শিল্পের মর্যাদায় নিয়ে গেছেন। একজন আদর্শ মা হিসেবে তিনি তার দু’সন্তানকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলছেন। একমাত্র ছেলে মুদহাম্মাতান মাহদি সিলেট নর্থ-ইস্ট মেডিক্যাল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। একমাত্র মেয়ে সায়েকা আহমদ চতুর্থ শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী।

শিক্ষা জীবন
জনাব সায়েক আহমদ-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় শমশেরনগর রামচিজ রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমান শমশেরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। সেখান থেকে তিনি ১৯৭৮ সালে কৃতিত্বের সাথে ৫ম শ্রেণি পাস করেন। তিনি ‘শমশেরনগর এএটিএম উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৮৬ সালে সিলেট বিভাগের ঐতিহ্যবাহী ‘এমসি কলেজ’ (তখন নাম ছিল সিলেট সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) থেকে এইচএসসি পাস করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু তখন নিজের এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়সমূহে বিএসসি (গণিত) শিক্ষকের প্রচন্ড সংকট ছিল। এমতাবস্থায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের চাপে বিএসসি পাসকোর্সে ভর্তি হন এবং ১৯৮৮ সালে ‘মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ’ থেকে বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কর্ম জীবন 
জনাব সায়েক আহমদ ১৯৮৯-৯০ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কানিহাটী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি (গণিত) এর শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তখন তার বয়স মাত্র ২০ বছর। তবে একজন শিক্ষক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার পথে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। এ প্রশিক্ষণই তাকে আদর্শ ও সফল শিক্ষক হবার অনুপ্রেরণা দান করে। তাই ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করার মাধ্যমে সায়েক আহমদের প্রকৃত শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৯১-৯২ সালে শমশেরনগর হাজী মোহাম্মদ উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ১৯৯২ সাল থেকে ২০০০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক (গণিত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা এর উচ্চতর গণিত বিষয়ের পরীক্ষক এবং ২০০১ সাল থেকে  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট এর উচ্চতর গণিত বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট এর উচ্চতর গণিত বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
জনাব সায়েক আহমদ ২০০০ সালের  ১৫ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ঐ বৎসর থেকেই রাজনগর উপজেলার একমাত্র এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০০২ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তিনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। তিনি ২০১০ সালে সিলেট বিভাগের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এ বিদ্যালয়টি বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) কর্তৃক পরিচালিত হয়।

কর্ম জীবনে অর্জন 
জনাব সায়েক আহমদ শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতি-সাংবাদিকতায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। ছড়াকার হিসেবে তিনি নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া শিশুতোষ গল্প-উপন্যাস লিখেও তিনি সুনাম অর্জন করেন। তার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে ‘হিমু এবং হিমু’ গ্রন্থটির জন্য শিশু সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালে তিনি সুপ্রীমকোর্ট মিলনায়তন থেকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

একজন সাংবাদিক ও সংগঠক সায়েক আহমদ
জনাব সায়েক আহমদ ১৯৮৪ সালে সিলেট বিভাগের প্রাচীন ‘সাপ্তাহিক যুগভেরী’তে সংবাদদাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদদাতা, গল্পকার, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক হিসেবে তার বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। ‘সাপ্তাহিক যুগভেরী’তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত ‘কুম্ভকর্ণ ভাঙ্গো নিদ্রা’ নামে তার একটি কলাম বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম-অসঙ্গতি নিয়ে রসাত্ববোধকভাবে রচিত এ কলামটি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল।
১৯৯৪ সালে জনাব সায়েক আহমদ শমশেরনগর কলেজ প্রতিষ্ঠা পরিষদের আহ্বায়ক ও তার দুই বন্ধু সাইফুর রহমান কামরান ও মঈনুল ইসলাম খান যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে শমশেরনগরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খানকে সভাপতি ও সায়েক আহমদকে সম্পাদক করে শমশেরনগর কলেজ প্রতিষ্ঠা পরিষদ পুনর্গঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শমশেরনগরে সুজা মেমোরিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সিলেট বিভাগের একটি অন্যতম কলেজ হিসেবে সুনাম অর্জন করে। উল্লেখ্য, সুজা মেমোরিয়াল কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইফুর রহমান কামরান।

শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবীদাওয়া নিয়ে শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন আন্দোলনেও জনাব সায়েক আহমদ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালের শিক্ষক আন্দোলনের সময় মৌলভীবাজার জেলায় তিনটি শিক্ষক সমিতি পৃথক পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। উক্ত সময়ে তিনি শিক্ষক সমিতিগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মৌলভীবাজার জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ, কলেজসমূহ এবং মাদ্রাসাসমূহ সম্মিলিতভাবে গঠন করে মৌলভীবাজার জেলা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক সমিতি। ফণী ভূষণ ভট্টাচার্যকে আহ্বায়ক এবং আজিজুর রহমান ও সায়েক আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করে মৌলভীবাজার জেলা ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক সমিতি গঠিত হয়েছিল এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবী আদায়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।

আইসিটিতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনাব সায়েক আহমদ তার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০১৬ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম) এর ব্যবস্থাপনায় ১৬তম আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন্স ইন ইন্সটিটিউশনাল ওয়ার্কশপে ১ম স্থান অধিকার করে তিনি তার নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। এছাড়া ২০১০ সাল থেকে টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের ক্লাস্টার সেন্টার স্কুলের প্রধান হিসেবে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথেও তিনি বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে নয়, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবেও তিনি মৌলভীবাজার জেলায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। উচ্চতর গণিতের একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম সর্বত্র সুবিদিত।

২০২০ সালের বইমেলায় সায়েক আহমদের প্রকাশিত ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব খোকা দ্য গ্রেট’ গ্রন্থটি তাকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে ছোটদের উপযোগী করে রচিত এ গ্রন্থটি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলা একাডেমীর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক আহমদ সিরাজ বইটির সমালোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘গ্রন্থটি হাতে পেয়ে ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’র মত চমকে উঠতে হয়। বইটির অবয়ব আকর্ষণীয়। বইটির বিষয়বস্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে রচিত। লেখক ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে সম্পূর্ণ ছোটদের উপযোগী করে গল্পগুলো লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের ভেতর দেশ, সমাজ, রাজনীতি, দৈশিক, বৈশ্বিকতার বিস্তৃত জমিন পড়ে আছে, তার ভেতর থেকে বঙ্গবন্ধুকে বুঝে নেয়া, খুঁজে নেয়ার উপায় হয়ে উঠেছে। এজন্য লেখক সায়েক আহমদ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করেছেন ঘাম ঝরানো কৃষকের জমি চাষের মত- যে চাষের ভেতর থেকে খোকা দ্য গ্রেট অর্থাৎ কিশোর বঙ্গবন্ধুকে নতুনভাবে পাঠের সুযোগ হয়েছে। কোন আগ্রহী অনুসন্ধানী পাঠক ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব খোকা দ্য গ্রেট’ বইটি পাঠ করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এর অন্যরকম স্বাদ আস্বাদন করতে চাইলে তাকে পাশাপাশি গ্রন্থ দুটি নিয়ে বসতে হবে। একসাথে  বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং  ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব খোকা দ্য গ্রেট’ বই দুটো পড়লেই পার্থক্যটুকু উপলব্ধিতে আসবে। সৃষ্টিশীলতার অন্যতম উদাহরণ উক্ত গ্রন্থটি। এমন সৃষ্টিশীল গ্রন্থ পাঠের দ্বিতীয় উদাহরণ চোখে পড়ে না।’ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সব্যসাচী লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ মীর লিয়াকত আলী লিখেছেন, ‘এবারের বইমেলায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই এর অভাব নেই। তবে সায়েক আহমদ এর ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব খোকা দ্য গ্রেট’ এর কাছে প্রায় সবই ম্লান! নামকরন তো আনকমন, স্প্লেন্ডিড।’


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশকের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনী।



সর্বশেষ সংবাদ
মানবতার ফেরিওয়ালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক
জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বোয়ালখালী প্রেসক্লাব
জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বোয়ালখালী প্রেসক্লাব
বোয়ালখালীতে পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত

  • ফেসবুকে আমরা
    বিশেষ জ্ঞাতব্য: বিজ্ঞাপন ও অনুদানের চেকটি Masik ShikshaTotthow নামে A/C Payee প্রদান করতে হবে। অথবা হিসাবের নাম: মাসিক শিক্ষাতথ্য (Masik ShikshaTotthow), হিসাব নাম্বার: ৩৩০২২৩৮৪, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, শিল্পভবন কর্পোরেট শাখা, ঢাকা”-তে অনলাইনে ক্যাশ/চেক জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয়ত: ক্যাশ পাঠানো যাবে-বিকাশ: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪, ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। রকেট: ০১৭১৬২০৫৩০৪০। এজেন্ট ব্যাংকিং নাম্বার: ৭০১৭৫১১৭৬০৬২৭ (ডাচ-বাংলা ব্যাংক)।


    ● সাক্ষাৎকার
    ● শিক্ষা সংবাদ
    ● সারাদেশ
    ● জাতীয়
    ● রাজনীতি
    ● আন্তর্জাতিক
    ● সাহিত্য চর্চা
    ● চাকরীর তথ্য
    ● ব্যাংক-বীমা অর্থনীতি
    ● সম্পাদকীয়
    ● শুভ বাংলাদেশ
    ● সুধীজন কথামালা
    ● বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি
    ● প্রতিষ্ঠান পরিচিতি
    ● শিক্ষক কর্ণার
    ● শিক্ষার্থী কর্ণার
    ● সফলতার গল্প
    ● বিশেষ প্রতিবেদন
    ● নিয়মিত কলাম
    ● মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
    ● অনিয়ম-দুর্নীতি
    ● ভর্তি তথ্য
    ● বিনোদন
    ● লাইফস্টাইল
    ● খেলাধুলা
    ● ধর্ম ও জীবন
    ● পাঠকের মতামত
    ● জন্মদিনের শুভেচ্ছা
    ● বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা
    ● শোকগাঁথা
    ● স্বাস্থ্যতথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য প্রকাশনী
    ● টিউটোরিয়াল
    ● ইতিহাসের তথ্য
    ● প্রবাসীদের তথ্য
    ● অন্যরকম তথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য পরিবার
    সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন
    ২২৩ ফকিরাপুল (১ম লেন), মতিঝিল, ঢাকা থেকে সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত
    এবং প্রিন্ট ভার্সন : আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরাপুল (১ম লেন), ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
    ফোন: ৭১৯১৭৫৮, মোবাইল: ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। বিজ্ঞাপন: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪,
    ইমেইল: shikshatotthow@gmail.com (নিউজ এন্ড ভিউজ), ad.shiksha2008.gmail.com (বিজ্ঞাপন)