
| Headline : |
|
খেদমতের ২৪ বছর চলছে
রমজান এলেই মাহাতাবের বিনামূল্যের মেসওয়াক বিতরণ
বার্তা প্রেরক:- গোলাম তোফাজ্জল কবীর মিলন, বাঘা, রাজশাহী। শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২৮ এপ্রিল, ২০২০) :-
![]() রমজান মাস এলেই ব্যাগভর্তি মেসওয়াক বা দাঁতন নিয়ে পুরাতন একটি বাইসাইকেলে বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ান মাহাতাব। তবে তাঁর মেসওয়াক ব্যবহারে কোন টাকা-পয়সা দিতে হয়না। সবাই ফ্রি ব্যবহার করতে পারেন। রোজদারদের খেদমতে বিনামূল্যে ২৪ বছর ধরে মেসওয়াক বিতরণ করছেন ৫৫ বছর বয়োসার্ধ মাহাতাব উদ্দীন। বাড়ি থেকে দুরের হাট-বাজারে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন পুরাতন একটি বাই সাইকেল। এই সাইকেলে ব্যাগ ভর্তি মেসওয়াক নিয়ে পৌছে যান আগ থেকেই স্থির করা বাজারে। সাইকেলটি রেখে নিদিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে ছন্দ মিলিয়ে মেসওয়াক বিতরনকালে বলেন, বাংলার মাটিতে এক কাঠা জমি থাকলে সরকারকে কর দিতে হয়। কিন্তু আমাকে কিছুই দিতে হবেনা। সবাই আমার মেসওয়াক ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন। এভাবে ছন্দ তুল্ েহাট বাজারে মেসওয়াক বিতরণ করেন । অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র স্বভাবের মানুষ মাহাতাব উদ্দীন পেশায় গোপালপুর সুগার মিলের একটি খামারের ওয়াচ ম্যান। বাড়ি রাজশাহী জেলার পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার চকমাহাপুর গ্রামে। রোববার(২৬এপ্রিল)দিঘা বাজারে ফ্রি মেসাওয়াক বিতরণ কালে কথা হয় মাহাতাব উদ্দীন সঙ্গে তিনি বলেন,প্রতি বছরের রমজান মাসে রাজশাহী ও নাটোর জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার হাট বাজারে মেসওয়াক বিতরণ করতাম। কিন্তু এ বছর রমজান মাসে করোনা ভাইরাসের কারণে এলাকা বাহিরে যেতে পারিনি।তাই নিজের কাছে খারাপ লাগছে। তবে আল্লাহ যত বাঁচিয়ে রাখেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতি রমজান মাসে যেন এ সেবা করে যেতে পারি। মেসাওয়াক বিতরণ শুরু বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোট বেলায় রমজান মাসে বাড়ির নিকটবর্তী বাজারে গিয়ে বসে থাকতেন। বিকেল হলেই তাকে মেসওয়াক (দাঁতন) নিয়ে আসতে হুকুম করতেন। রোজাদারদের হুকুম শুনতেও কষ্ট মনে হতোনা। পরবর্তীতে নেশায় পেয়ে বসে, কেউ হুকুম করার আগেই যদি তার মেসওয়াকটা হাতের কাছে,পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে লোকটি আরো খুশি হবেন। সেই ভাবনা থেকেই ২৪ বছর ধরে তার পথচলা। সেহরি খাওয়ার পর মেসওয়াক তৈরির কাজ শুরু করেন । ফজর নামাজ অন্তে সকাল পর্যন্ত মেসওয়াক বানিয়ে দুপুরের পর বেরিয়ে পড়েন বিতরণ করতে। মেসওয়াক তৈরির কাজে বেশিরভাগ ব্যবহার করেন নিম ও ঔষধী আপাং গাছের ডাল। তার এ কাজে স্ত্রী ও সন্তানেরা সহযোগিতা করেন। আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে মেসওয়াকের চাহিদা কমে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ৪/ ৫’শ মেসওয়াক ফুরাইনা। আগে মেসওয়াক নিয়ে গেলে কাড়াকাড়ি লেগে যেত। তার এ কাজ শুধু রমজান মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিশ্ব ইজতেমার মাঠে বস্তায় ৫০ হাজার মেসওয়াক নিয়ে গিয়ে দেশি-বিদেশী মুসল্লীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। সংসার জীবনে ২ছেলে ও ১ মেয়ের জনক তিনি। বছর দশ আগে একমাত্র মেয়ে মুক্তার বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে মধু বাগাতিপাড়া ডিগ্রী কলেজে বিএ ভর্তি হয়। পরে লেখাপড়া না করে আনসার বাহিনী যোগ দেন।আর ছোট ছেলে সম্রাট আলী গ্রামের চকমাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে দশম শ্রেণী লেখা-পড়া করছে। দিঘা বাজারের দোকাদার জিল্লুর রহমান জানান, পুরো রমজান মাস মাহাতাব রোজাদারদের বিনামূল্যে মেসওয়াক দিয়ে খেদমত করেন। এ বয়সে বিনা টাকায় সেবাদান নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। । |