
| Headline : |
|
করোনা বিষয়ে অতীব জরুরী মানবিক আবেদন
নিবেদক : কাজী জাফর হোসেন, প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা, শিমুলকান্দি ডিগ্রি কলেজ ,ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (০২ এপ্রিল) :-
করোনা নামক আতংকে সারা দেশের মানুষ আজ গৃহবন্দি। সমস্ত দেশ আজ লক ডাউনে।বন্ধ রয়েছে সকল কিছু। বন্ধ রয়েছে ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রায় লক্ষাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহ। ফলে লক্ষ লক্ষ সাধারণ রোগি আজ ঘরে বসে কষ্ট পাচ্ছেন।আর অনেক মানুষ করোনার লক্ষণ সম্বলিত কিছু সাধারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গৃহবন্দি বা সিজোনাল কারণে।যেসন:সাধারণ সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, ফ্লু, ডায়রিয়া,এ্যাজমা ও বুক ভ্রাথা জনিত রোগ। অন্য সময়ে এগুলো সাধারণ রোগ হিসেবে চিকিৎসকগণ দেখতেন এবং ব্যবস্থাপত্রে ভালো হয়ে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে করোনার কারণে এই সাধারণ রোগই অসাধারণ হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকগণ রোগিই দেখতে চান না। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি মিডিয়া ও সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যমে এই সাধারণ রোগেও অহরহ রোগি মারা যাচ্ছে। কিন্তু কেন? এই সাধারণ রোগ গুলোর লক্ষণের সাথে করোনার লক্ষণের মিল থাকায় বর্তমানে কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে এদের চিকিৎসা করা হচ্ছে না ফলে রোগিদের মাঝে ভয় ,টেনশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সর্বোপরি অর্থচিন্তা ইত্যাদি কাজ করায় রোগীরা ভয় পেয়ে যান। যদিও প্রশাসন কিছু ডাক্তারের মোবাইল নম্বর দিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নেয়ার পরার্মশ দিয়েছেন। কিন্তু উক্ত নাম্বার বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ বা অচল থাকে। কাউকে পেলে যে ব্যবস্থাপত্র তারা দেন, সেই ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশনের) ঔষধ তখন পাওয়া যায় না। কেননা বেশির ভাগ চিকিৎসাকেন্দ্র ও ফার্মেসী বন্ধ থাকায় সামান্য ঔষধও রোগীর পরিবার সংগ্রহ করতে পারেন না। দু একটা দোকান খোলা থাকলেও কাংখিত ঔষধটি সেই সময়ে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় না রোগীর পথ্য পর্যন্ত। ফলে বেশিরভাগ রোগী মানসিক,শারিরিক ও ভয়ের কারণে (করোনার ভয়,ঔষধ না পাবার ভয়,যাতায়াত না পাবার ভয়,ডাক্তার না পাবার ভয় ইত্যাদি) সাধারণ রোগটি অসাধারণ রূপ লাভ করে ফলে একসময় রোগী টেনশনে স্ট্রোক করে এবং মারা যায়। ফলে এ সময়ে দেখা দেয় আরো ঝামেলা সাধারণ কারনে মরা রোগীটার গায়ে পরে করোনার ছাপ, হয়ে যায় তিনি করোনার সন্দেহভাজন রোগী। স্বাভাবিক জানাজা বা কবর দেয়াও তখন হয়না, বিশেষ ভাবে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। মৃত্যুর পর তার করা হয় করোনা টেষ্ট কিন্তু কয়েকদিন পর জানা যায় তার মৃত্যু করোনায় নয় হয়েছে অন্য কোন কারণে। দিন যত যাবে এ প্রবনতা আরো বাড়বে। তাই এ ব্যাপারে এখুনি সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনের ও মিডিয়ার দৃষ্টি আর্কষণ করছি। এক্ষেত্রে এখনই প্রতিটি পরিবারের কাছে খাবারের পাশাপাশি এই সকল সাধারণ রোগের প্রাথমিক বা লকডাউন থাকা কালিন সময়ে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ(জ্বর,সর্দি,কাশি,ফ্লু,শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির),স্যালাইন,ভিটামিন সি সহ যাবতীয় সুরক্ষা সামগ্রী প্রতিটি বাড়িতে ত্রান হিসেবে পৌছে দিতে পারলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসতো। তাদের মাঝে আর আতংক কাজ করতো না। ঔষধগুলো বাড়িতে থাকলে রোগীদের পরিবারের লোকজন ডাক্তারদের নাম্বারে ফোন করে জেনে নিয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতো। ফলে এই সাধারণ রোগগুলো আর অসাধারণ রোগে পরিনত হতো না। আমার মনে হয় এই সময়ে খাদ্য সাহায্যের পাশাপাশি কিছু নির্ধারিত ঔষধ ও পথ্য, সাহায্য হিসেবে সকলকে প্রদান করা মানবিক ও জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। বিষয়টি অতীব জরুরী ও মানবিক বিধায় এ ব্যাপারে প্রশাসন, মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করি সু দৃষ্টি দিবেন। |