মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা ২০০৮ সাল থেকে প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত হচ্ছে যার রেজি: ডি.এ. নাম্বার: ৫০৮৫, ঢাকা
প্রিন্টিং সংস্করণ
শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ৮ কার্তিক ১৪৩৩
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। এটি শিক্ষক সমাজের অধিকার।
=== মো. নজরুল ইসলাম রনি ===
Published : Monday, 24 February, 2020 at 11:13 PM
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২৪ ফেব্রুয়ারি) :-
মুজিববর্ষৈই এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ঘোষণা আদায়ে শিক্ষক সমাজের ঐক্যের বিকল্প নেই। শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং থাকতে পারে কিন্তু জাতীয়করণে কোন বিভাজন আশা করি না।কারণ এটা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।বেতন বৈষম্য আমাদের জীবনকে যেমন দারিদ্র্যের নিম্ন সীমায় নিয়ে গেছে তেমনি শিক্ষার মানকে ক্রমশ ধবংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।শিক্ষা ও শিক্ষক বাঁচাতে হলে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে সবাইকে।মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ এ বিষয়ে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

আশির দশকে প্রথম এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা আন্দোলন করেই তাদের বিভিন্ন দাবি আদায় করেছে।শিক্ষকদের মধ্যে যে সব বেতন বৈষম্য রয়েছে তা শিক্ষা সচিব,শিক্ষামন্ত্রী এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও হয়তো জানেন না।২০১৫ সালে ৮ম জাতীয় পে স্কেল বাসতবায়ন হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে আন্দোলন সংগ্রাম করেই সেটা পেতে হয়।

স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রথম বৈশাখী ভাতা প্রদান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।কিন্তু সেই বৈশাখী ভাতার জন্যও কয়েক বছর অপেক্ষা ও আন্দোলন করতে হয় শিক্ষক সমাজকে।

২২জানুয়ারি ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত শিক্ষককর্মচারীদেরকে প্রথম ২৫% ঈদবোনাস প্রদান করা হলেও আজ দীর্ঘ ১৬ বছরেও এর কোন পরিবর্তন নেই।ঈদ এলেই শিক্ষক কর্মচারীদের দুঃখ দুর্দশা বেড়ে যায়।২৫% ঈদ বোনাস দিয়ে শিক্ষকগণ তাদের স্ত্রী পুত্র ও ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে ঈদের আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারেন না।  শিক্ষক-কর্মচারীগণ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ১০০টাকা বাড়ি ভাড়া পেয়ে আসছিলেন।২০০৮ সালে তীব্র আন্দোলন করলে বর্তমান সরকার দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাড়ি ভাড়া৫০০টাকায় উন্নীত করেন।তার পরে আরো আন্দোলন ও তীব্র দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে বাড়ি ভাড়া ১০০০টাকা এবং চিকিত্সা ভাতা মাত্র ৫০০টাকা প্রদান করেন।

তারপরের ইতিহাস বেদনাদায়ক।২০১৮ সালে কয়েকটি সংগঠনকে জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১০জানুয়ারি থেকে অবস্থান ধর্ম ঘট ও অনশন শুরু হলো।দীর্ঘ ১৯দিন অনশন ও ধর্মঘট করার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ৫ % বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা প্রদানের আশ্বাস এলে আমরা ঘরে ফিরে যাই।২০১৮ সালের মার্চ মাসেই ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাসতবায়ন করার কথা থাকলেও ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে সেটা নভেম্বর মাসে আলোর মুখ দেখে।কিন্তু এর পরেই আবার শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে অতিরিক্ত ৪% কর্তন শুরু করে।এতে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।অতিরিক্ত কর্তন বন্ধে আবার শুরু হলো আন্দোলন।

কিন্তু শিক্ষক সমাজের শত্রু কারা? আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।

একজন শিক্ষক নেতা শিক্ষা মন্ত্রীর সামনে বলেন শিক্ষকরা অনেক কিছু পেয়েছে। কিন্তু বেতন বৈষম্যের কথা একবারও বলেনি।এদের পক্ষে কাজ করা শিক্ষক সমাজ কি আশা করেন? শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ১০০০টাকা ও চিকিত্সা ভাতা ৫০০টাকা।বর্তমানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন আকাশ ছোঁয়া গতি।শিক্ষক সমাজের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।তাই এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক সাথে জাতীয়করণ ঘোষণা করতে হবে।মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ ঘোষণা চাই।আর সেটা বাসতবায়ন করতে পারবেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।তাঁর পরবর্তী স্বপ্ন ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা।কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট বিশ্ব বেঈমান ও বিশ্বাস ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে নিহত হলে সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।৫লাখ শিক্ষক -কর্মচারীদের প্রত্যাশা বিশ্ব মানবতার মা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষেই এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক সাথে জাতীয়করণ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিবেন।

বেতন বৈষম্য দূর করতে এবং মুজিববর্ষেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ৯ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় অবস্থান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।এতে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছি।বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। সংগঠন যার যার জাতীয়করণ সবাইর।

জয় বাংলা।

মো. নজরুল ইসলাম রনি
সভাপতি
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও মুখপাত্র 
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশকের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনী।



সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহ্য ও ঐক্যের বন্ধনে মৌলভীবাজার জেলা সমিতি
কক্সবাজারের ইনানীতে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক টাওয়ার সম্বলিত ফাইভ স্টার হোটেল এন্ড রিসোর্ট
মায়ের আদেশে প্রতিদিন পাঁচজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত : চিকিৎসা সেবা পেলেন অর্ধশতাধিক রোগী
সর্বাধিক পঠিত

  • ফেসবুকে আমরা
    বিশেষ জ্ঞাতব্য: বিজ্ঞাপন ও অনুদানের চেকটি Masik ShikshaTotthow নামে A/C Payee প্রদান করতে হবে। অথবা হিসাবের নাম: মাসিক শিক্ষাতথ্য (Masik ShikshaTotthow), হিসাব নাম্বার: ৩৩০২২৩৮৪, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, শিল্পভবন কর্পোরেট শাখা, ঢাকা”-তে অনলাইনে ক্যাশ/চেক জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয়ত: ক্যাশ পাঠানো যাবে-বিকাশ: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪, ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। রকেট: ০১৭১৬২০৫৩০৪০। এজেন্ট ব্যাংকিং নাম্বার: ৭০১৭৫১১৭৬০৬২৭ (ডাচ-বাংলা ব্যাংক)।


    ● সাক্ষাৎকার
    ● শিক্ষা সংবাদ
    ● সারাদেশ
    ● জাতীয়
    ● রাজনীতি
    ● আন্তর্জাতিক
    ● সাহিত্য চর্চা
    ● চাকরীর তথ্য
    ● ব্যাংক-বীমা অর্থনীতি
    ● সম্পাদকীয়
    ● শুভ বাংলাদেশ
    ● সুধীজন কথামালা
    ● বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি
    ● প্রতিষ্ঠান পরিচিতি
    ● শিক্ষক কর্ণার
    ● শিক্ষার্থী কর্ণার
    ● সফলতার গল্প
    ● বিশেষ প্রতিবেদন
    ● নিয়মিত কলাম
    ● মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
    ● অনিয়ম-দুর্নীতি
    ● ভর্তি তথ্য
    ● বিনোদন
    ● লাইফস্টাইল
    ● খেলাধুলা
    ● ধর্ম ও জীবন
    ● পাঠকের মতামত
    ● জন্মদিনের শুভেচ্ছা
    ● বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা
    ● শোকগাঁথা
    ● স্বাস্থ্যতথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য প্রকাশনী
    ● টিউটোরিয়াল
    ● ইতিহাসের তথ্য
    ● প্রবাসীদের তথ্য
    ● অন্যরকম তথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য পরিবার
    সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন
    ২২৩ ফকিরাপুল (১ম লেন), মতিঝিল, ঢাকা থেকে সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত
    এবং প্রিন্ট ভার্সন : আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরাপুল (১ম লেন), ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
    ফোন: ৭১৯১৭৫৮, মোবাইল: ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। বিজ্ঞাপন: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪,
    ইমেইল: shikshatotthow@gmail.com (নিউজ এন্ড ভিউজ), ad.shiksha2008.gmail.com (বিজ্ঞাপন)