
| Headline : |
|
শ্রীপুরের ইতিহাসে কাওরাইদ
বার্তা প্রেরক:- আবু সাঈদ, শ্রীপুর, গাজীপুর।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (০৭ অক্টোবর) :-
![]() ইতিহাস আমাদের গর্ব। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না সে জাতির গর্ব করা উচিৎ নয়। ইতিহাস ঐতিহ্য নানাভাবে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করে। ইতিহাসে লুকিয়ে আছে নানা শিক্ষাণীয় বিষয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরাই লক্ষ্য। শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুতিয়া নদী যা গফরগাঁও ও শ্রীপুর উপজেলার বুক চিরে গফরগাঁও ও শ্রীপুরকে বিভক্ত করেছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালী, গীতিকার, সুরুকার গায়ক ও কবি অতুল প্রসাদ (জন্ম ১৮অক্টো,১৮৭১ মৃত্য ২৭ আগস্ট,১৯৩৪) সেনের চিতা ভস্ম কাওরাইদে সমাহিত করা হয়।পাশে সমাহিত আছে বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ, ব্যারিস্টার, জমিদার কালি নারায়ন গুপ্তের সামাধি। কালি নারায়ন গুপ্তের নামনুসারে কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিঃ (স্হাপিত ১৯২৯) নামকরন করা হয়েছে। কালি নারায়ন ও অতুল প্রসাদ মামা ভাগিনা।একজন বিলেতি পাশ ব্যারিষ্টার মাটি ও মানুষের জন্য গান কবিতার মধ্য তার অমরত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি সুতিয়া নদীর পাশে বসে লিখেছেন মোদের গরব, মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা তোমার কোলে তোমার বোলে কতই শান্তি ভালবাসা। ![]() বৃটিশ আমলে থেকে কাওরাইদ রেল যোগাযোগ উন্নত ছিল। সেই সুবাদে ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহে যাত্রাকালে কাওরাইদে যাত্রা বিরতি করেন এবং কাচারী বাড়িতে বিশ্রাম করে সুতিয়া নদীর তীর, কাওরাইদী ব্রাহ্ম মন্দির (প্রতিষ্ঠিত ১৩০০সাল) ঘুরে ঘুরে দেখেন। সমাধি সৌধে ১৭টি শ্বেত পাথরের স্মৃতি ফলক লক্ষ্য করা গেছে। জানা গেছে ভারতের টাটা গ্রুপের মালিক কে এন গুপ্তের বংশধর। প্রতি বছর মন্দিরে ব্রাহ্ম সমাজের অনুষ্ঠান হয়। মূলতঃ ব্রাহ্মরা সাকার ইশ্বরের পরিবর্তে একেশ্বরবাদী ছিল। অনেকে ধারনা ‘কাওরাইদী ব্রাহ্ম মন্দির’ থেকে কাওরাইদ নামকরন হয়ে থাকতে পারে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্মৃতি ফলক ও কাচারী বাড়ির সমাধি সৌধ প্রভৃতি পাকিস্তানী বাহিনীর গুলিতে কিছুটা নষ্ট হয়েছে। |