মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা ২০০৮ সাল থেকে প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত হচ্ছে যার রেজি: ডি.এ. নাম্বার: ৫০৮৫, ঢাকা
প্রিন্টিং সংস্করণ
শুক্রবার ● ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সরকারের দেওয়া শিক্ষার্থী ডায়েরী ব্যবহারের নির্দেশনাটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত
বাগেরহাটে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি
তপন কুমার বিশ্বাস জেলা প্রশাসক বাগেরহাট
Published : Tuesday, 20 November, 2018 at 2:46 PM
তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি। কর্তব্যবোধ ও দায়িত্বের প্রতি তাঁর যথেষ্ট আন্তরিকতা আমাকে বিমোহিত করেছে। তাঁর মধ্যে তেমন কোন অহমিকা বা দাম্ভিকতা লক্ষ্য করা গেল না। অথচ অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে দেখেছি- তাদের চেয়ারের দাপট কত, সময়ের দাম কত! কথা বলতেই চান না, যেন সব ‘সময়’কে তিনিই কিনে নিয়েছেন। তার কাছে আমার মতো ছা-পোষা সাংবাদিকের সময়ের কোন মূল্য নেই। ফলে সিডিউল নিতে ফোনের পর ফোন করতে হয়, ফোনে হবে না চিঠি দেন। কেরানি থেকে শুরু করে পিএস পর্যন্ত পৌঁছতে অনেক শ্রম-সময় নষ্ট করতে হয়। ফলে আসল কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় চলে যায়। আর আসল মানুষের কাছে পৌঁছলে তাঁর ব্যবহার, কথা-বার্তায় শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসে। তেমনটাই ঘটেছে তপন কুমার বিশ্বাস স্যারের বেলায়ও। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কয়েকটি কথা, কিছু বিষয়ে মতামত জানার জন্য ঢাকা থেকে অনেকবার সিডিউল নেয়ার চেষ্টা করেছি, পারিনি। তাই হঠাৎ চলে গেলাম বাগেরহাটে। তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে কার্ড পাঠানোর পর বেশি সময় অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়নি। আমি আমার আগমনের কথা সামান্যই বলেছি। বিস্তারিত না বলতেই তিনি উত্তর দেওয়া শুরু করলেন। তিনি বললেন, বাগেরহাট জেলার শিক্ষা সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলবো, আমি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমাদের সরকারি সিদ্ধান্ত,  সরকারও শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারের জন্য অনেক কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সরকারের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরাও শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন  উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন যে, শিক্ষাবিষয়ক ম্যাগাজিনধর্মী জাতীয় পত্রিকা মাসিক শিক্ষাতথ্য’র উদ্যোগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার ‘শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য’ শীর্ষক “বিশেষ শরণখোলা উপজেলা সংখ্যা” বের হচ্ছে। উক্ত সংখ্যায় বাগেরহাট জেলার সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষ তথ্য সংযোজনের জন্য শরণখোলা তথা বাগেরহাট জেলার প্রধান অভিভাবক ব্যক্তিত্ব জনাব তপন কুমার বিশ্বাস-এর মুখোমুখি হই। তিনি বাগেরহাট জেলার শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য তুলে ধরেছেন। তাই তাঁর দেওয়া মূল্যবান সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ শিক্ষাতথ্য পত্রিকার অগণিত পাঠক এবং বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাপ্রেমীদের জন্য তুলে ধরা হলো:শিক্ষাতথ্য: জেলা প্রশাসক একটি জেলার প্রধান নির্বাহী, অভিভাবক, কর্তা ব্যক্তিত্ব। তাই এ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্তব্য পালনে আপনার ভূমিকার কথা বলবেন কি ?তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট: একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে তার সুশিক্ষিত প্রজন্মের উপর। আমরা যদি সুশিক্ষিত  প্রজন্ম বিনির্মাণ করতে না পারি তাহলে আমাদের কোনও উন্নয়নই ফলপ্রসূ হবে না। আমরা আমাদের কাঙ্খিত উন্নতি লাভ করতে পারব না। আমরা জানি, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। এ ধ্রুবসত্য বাক্যটি যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত প্রজন্ম বিনির্মাণ করা। যথাযথভাবে ও মানসম্মত সুশিক্ষিত প্রজন্ম বিনির্মাণ করা আমাদের উচিত। সে প্রেক্ষাপটেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমি যেটি করেছি, আমরা অতি সম্প্রতি সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছি যেখানে অনেকে বক্তব্য রেখেছেন। কিভাবে সমাজ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য, অনিয়ম এবং হতাশাজনক চিত্র দূর করা যায় তা নিয়ে আমরা সকলের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করেছি। আমরা প্রথমতঃ শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করেছি তাদের নৈতিকতা পুনরুদ্ধার করার জন্য, তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য। আমরা এটাও বলেছি যে, আপনাদের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ বিশ্বাস ও আস্থা আছে, থাকবে। এ বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা রেখে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। তারপরেও যদি তাদের বোধোদয় না ঘটে সেক্ষেত্রে আমাদের আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। এতে সরকারও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। অনেক কার্যকরী ভূমিকাও পালন করছেন।  ইতিমধ্যে সরকার কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে অনেক কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কোচিং-বাণিজ্য দূরীকরণ করার জন্য আমরাও এ ধারবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস, শিক্ষকদেরকে যেভাবে আমরা অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছি তাতে তাদের বোধোদয় ঘটবে, নৈতিকতার জাগরণ ঘটবে এবং তারা তাদের ওপর আরোপিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।শিক্ষাতথ্য: জেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা তথা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে জেলা প্রশাসন থেকে আপনি কী ধরনের অবদান রেখে থাকেন?তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: বাগেরহাট জেলা একটি অপার সম্ভাবনাময় স্থান। এখানে অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক উন্নতির সম্ভাবনা রয়ে গেছে। আবার বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের অপ্রতুলতা রয়ে গেছে- অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা, শিক্ষক স্বল্পতা প্রভৃতি ধরনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এক সময় বাগেরহাট একটি অবহেলিত জনপদ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেটিও অস্বীকার করা যাবে না। তবে বর্তমানে এ জেলাটিও জাতীয় উন্নয়নের স্পর্শে  উজ্জীবিত হয়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাক্ষেত্রের যে ক্রুটি-বিচ্যুতি, অনিয়ম আছে, যে অপর্যাপ্ততা আছে সেগুলো দূরীকরণ করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সার্বিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠে বাগেরহাটের শিক্ষা-ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা আরো উন্নতি প্রত্যাশা করছি। শিক্ষাক্ষেত্র আরোও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, শ্রীমন্ডিত হয়ে উঠবে-এটি আমার দূঢ় বিশ্বাস, সেটি আমরা প্রত্যাশাও করছি।শিক্ষাতথ্য: অভিযোগ রয়েছে, জেলার অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষকের যে পরিমাণ পদ রয়েছে তা দীর্ঘদিন থেকে শূন্য পড়ে থাকে, যার ফলে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে ঠিকমত পাঠদান করানো সম্ভব হয় না, শিক্ষার্থীরাও পরিপূর্ণ শিক্ষা পায়না। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ?তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: আমি প্রথমেই বলেছি যে, বাগেরহাট একটি দূরবর্তী জায়গা, অবহেলিত জনপদ। এক সময় ছিল যখন এখানের প্রায় প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক স্বল্পতা ছিল, এখনো শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি মহাবিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটিতে শিক্ষক স্বল্পতা আছে। এই বিষয়গুলি আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কারণ অনেক দিন ধরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। সেজন্যই শিক্ষক অপ্রতুলতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই বিষয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দিবেন বলে আমরা মনে করছি।শিক্ষাতথ্য: এমপিওভুক্ত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করার জন্য প্রায় সময়ই শিক্ষক আন্দোলন হয় এবং শিক্ষকগণ ধর্মঘট ডেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে এ বিষয়ে আপনি কী বরবেন?তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: এমপিও নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। কারণ এটি একটি জাতীয় ইস্যু। তবে এমপিও নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে সেখানে বাগেরহাটের কোন শিক্ষক জড়িত আছেন কিনা সেটি আমি জানি না।  আমি এমপিও দেয়ার বিষয়ে সরকারকে যথেষ্ট উদার দেখেছি। যদি শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হয় তাহলে সরকার অবশ্যই তা পূরণ করবে। আর বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ তো সরকারিভাবে করা হয় না। সেখানে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ করে। অনেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক থাকেন। আমিওতো বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছি। আর এমপিও’র বিষয়টা যখন আমাদের কাছে আসে তখন আমরা সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেই। আর এক্ষেত্রে সরকারের উদারতার ঘাটতি আছে বলে মনে হয় না। এ বিষয়টি সরকারের তরফে বিশেষভাবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সকলকে একটু ধৈর্য্যশীল হতে হবে। শিক্ষকদের নিজস্ব দাবী-দাওয়া আদায়ের জন্য তারা যদি এইভাবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে তাহলে এটা দুঃখজনক ঘটনা। এটা যথাযথভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করলে আমার মনে হয় না কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি অর্জনে শিক্ষকরা ব্যর্থ হবেন। অবশ্যই তারা সরকারের সুদৃষ্টি পাবেন।শিক্ষাতথ্য: একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনার ভাবনার কথা বলবেন কী? তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: আমাদের প্রত্যেককেই ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষদের বুঝাতে হবে যে, শিক্ষাই সকল উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তিটা যদি দুর্বল হয় তাহলে কোন উন্নয়নই সম্ভব নয়। কারণ দুর্বল ভিত্তির ওপর কেউই কোন অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবে না। উন্নয়নের কোন অট্টালিকাই এর মধ্যে বিনির্মাণ হবে না। একটি ভবনের ভিত্তি যদি দুর্বল হয় তাহলে ভবনটি যথাযথভাবে  নির্মাণ করা যায় না। তেমনিভাবে আমরা যদি জাতিকে প্রত্যাশিতভাবে নির্মাণ করতে চাই তাহলে শিক্ষাকে সুদৃঢ় করতে হবে এবং শিক্ষাকে মানসম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষাকে যথাযথভাবে সমৃদ্ধ করতে হবে। আর এই বিষয়টি মানুষকে বুঝাতে হবে। যদি আমরা চেতনার জাগরণ ঘটাতে পারি, শিক্ষকদের মধ্যে অভিভাবকদের মধ্যে অর্থাৎ আমরা যদি যথাযথভাবে সমাজের মধ্যে জাগরণ ঘটাতে পারি এবং মানুষ সচেতন হয় তাহলে আমরা আমাদের প্রত্যাশিত ফল লাভ করতে পারব বলে আমি  মনে করি।শিক্ষাতথ্য: অনেকেই বলে থাকেন যে, কোচিং ও গাইড পুস্তক নির্ভরতা ছাত্র-সমাজের সৃজনশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দেশ ও জাতির কাঙ্খিত উন্নয়নের জন্য এধরনের কোচিং নির্ভরতা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে-এ সম্পর্কে আপনার মতামত বলবেন কি? তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট: এটা সত্য যে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বিরাজ করেছে। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য যেমন আছে তেমনি পাশাপাশি কিছু অনিয়ম, ক্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ত্রুটির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্যিক কার্যক্রম। কোচিং ব্যবসা ও গাইড পুস্তক নির্ভরতা বর্তমান সময়ে আমাদের বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। টিউশনি, কোচিং-বাণিজ্য সহ আরো যেসব বিষয় শিক্ষা-কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে, তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন, বলা চলে আমরা এসব নিয়ে বেশ হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় আছি। এ সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে দূরীকরণ করে আমরা গুণগত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা চাই, শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অধিক মনোযোগী হবেন। তারা টিউশনি, কোচিং-বাণিজ্য নিয়ে যেসমস্ত কার্যকলাপের প্রতি বেশি মনোযোগী সেই মানসিকতা থেকে সরে তাদেরকে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে বেশি মনোযোগী হতে হবে। নতুন প্রজন্ম বিনির্মাণে তাদেরকে আরো বেশী কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যখন বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শনে যাই তখন চেষ্টা করি যথাসম্ভব বেশী সংখ্যক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালীন শিক্ষকদের সাথে, ছাত্রদের সাথে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করি। টিউশনি, কোচিং-বাণিজ্যের অপকারিতা সম্পর্কে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করি, বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করি। শিক্ষাতথ্য: পরিবার ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আজ বড় অভাব; যার ফলশ্রুতিতে দেশে আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের রাজত্ব চলছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় এবং ছাত্র-শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে একজন জেলার কর্তা ব্যক্তি তথা অভিভাবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনার পরামর্শের কথা বলবেন কি?তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: আমি আমার কথায় এবিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করেছি। তারপরও আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলছি-একথা সত্য যে পরিবার ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আজ বড় অভাব। কারণ শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান অনিয়ম নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, টিউশনি, কোচিং-বাণিজ্য নিয়ে হতাশাগ্রস্ত। এসমস্ত নৈতিকতার যে স্খলন ঘটছে তার অনেকগুলো কারণ আছে। এককভাবে কোনও কারণকে দায়ী করা যাবে না। এক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে আমাদের কিছু ব্যর্থতা রয়ে গেছে। প্রথমতঃ শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। নৈতিকতার ক্ষেত্রে তাদের যে ঘাটতি লক্ষ্য করেছি সেক্ষেত্রে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। সব সময় কিন্তু শাস্তি প্রয়োগ করে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রত্যাশিত ফল লাভ করা যায় না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন মানুষের মধ্যে নৈতিকতার জাগরণ ঘটানো, মানুষকে সচেতন করে তোলা।মনে করুন, টিউশনি কোচিং-বাণিজ্য যেসকল শিক্ষক করছেন তারা আপাতভাবে বলে থাকবেন যে তারা কিছু বাড়তি টাকার জন্য এটি তারা বৈধভাবে করছেন। আবার অভিভাবকগণ বলবেন যে তারা তাদের সন্তানদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে চান। কারণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদান করেন না। তাই বাড়তি শিক্ষার জন্য তারা তাদের সন্তানদের কোচিংয়ে দেন।  তবে যে যাই বলুক না কেন, মূলতঃ শিক্ষকদের পিছনে সরকার অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। তাদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধিতে সরকার ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের বেতন ভাতাদিও বেড়েছে। তারপর যার যেরকম আয়-রোজগার, যে সীমিত আয় তার মধ্য দিয়েই তাকে চলতে হবে। আমি মনে করি, নৈতিকতার স্খলনের জন্য এই অভাবই একমাত্র দায়ী নয়, একমাত্র বিষয় নয়। মূলতঃ শিক্ষকতা পেশা নয়, একটি মহান ব্রত। এই ব্রততে যারা নিবেদিত আছেন তাদেরকেই এই ব্রতটি যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং যথাযথভাবে তাদেরকে এই ব্রততে নিবেদিত হতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনেরও অনেক করণীয় আছে বলে আমি মনে করি। শিক্ষকগণ যাতে শিক্ষকতা পেশায়ই নিবেদিত হতে পারেন, শিক্ষার জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আমরাও কাজ করে যাচ্ছি।শিক্ষাতথ্য: শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য ক্লাশে কি পড়ানো হচ্ছে এবং পরেরদিন কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় পড়ানো হবে, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা প্রভৃতি লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ডায়েরীতে লেখার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক “শিক্ষার্থী ডায়েরী” প্রচলন করার জন্য সরকারিভাবে বাৎসরিক ছুটির তালিকার সাথে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথ মনিটরিংয়ের বিষয়ে একটি জেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আপনার জেলার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করছি।তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সরকারের দেওয়া শিক্ষার্থী ডায়েরী ব্যবহারের নির্দেশনাটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। সরকারের এ সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে পালনের জন্য আপনার অভিমতটি আমার মাথায় রাখলাম। আমি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে বলবো- তারা যেন নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আপনার এটি সুচিন্তিত পরামর্শ। এটা সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ হয় না বলে মনে হয়। তবে বাগেরহাটের অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থী ডায়েরীর ব্যবহার করতে দেখেছি। আর যারা ডায়েরী ব্যবহার করে না, করতে কিছুটা অনাগ্রহী তাদেরকে আমরা বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করব।শিক্ষাতথ্য: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাবিষয়ক পত্রিকা ‘মাসিক শিক্ষাতথ্য’ বৃহত্তর আকারে দেশব্যাপী বের হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে দেশের যেকোনো একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে বিশেষ উপজেলা সংখ্যা বের হচ্ছে; পরবর্তী সংখ্যাটি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হচ্ছে। তাই একজন পথপ্রদর্শক অভিভাবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এ ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্যে আপনার দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক মতামত প্রত্যাশা করছি।তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক: এক বাক্যে আমি আপনাদের এমন মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, অভিনন্দন জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার এবং সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের মহতী উদ্যোগের সাথে আপনারাও যে শরীক হতে যাচ্ছেন তার জন্য আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সার্থক হোক আপনাদের প্রচেষ্টা।
জেলা প্রশাসকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিজনাব তপন কুমার বিশ্বাস ১৯৬৮ সালের ১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার পূর্ব দাশড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস এবং মাতার নাম রসলতা বিশ্বাস। তাঁর পিতা একজন শিক্ষক ছিলেন। জনাব তপন কুমার বিশ্বাসের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় মানিকগঞ্জেই। তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে এসএসসি এবং সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ হতে ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে বুয়েট থেকে তড়িৎ এবং ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ার হতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। জনাব তপন কুমার বিশ্বাস ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। পঞ্চগড় জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন এবং নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। জনাব তপন কুমার বিশ্বাস ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। পারিবারিক জীবনে জনাব তপন কুমার বিশ্বাস ২ সন্তানের জনক। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস প্রমীলা সরকারও একজন সরকারি কর্মকর্তা।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশকের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনী।



সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহ্য ও ঐক্যের বন্ধনে মৌলভীবাজার জেলা সমিতি
কক্সবাজারের ইনানীতে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক টাওয়ার সম্বলিত ফাইভ স্টার হোটেল এন্ড রিসোর্ট
মায়ের আদেশে প্রতিদিন পাঁচজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত : চিকিৎসা সেবা পেলেন অর্ধশতাধিক রোগী
সর্বাধিক পঠিত

  • ফেসবুকে আমরা
    বিশেষ জ্ঞাতব্য: বিজ্ঞাপন ও অনুদানের চেকটি Masik ShikshaTotthow নামে A/C Payee প্রদান করতে হবে। অথবা হিসাবের নাম: মাসিক শিক্ষাতথ্য (Masik ShikshaTotthow), হিসাব নাম্বার: ৩৩০২২৩৮৪, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, শিল্পভবন কর্পোরেট শাখা, ঢাকা”-তে অনলাইনে ক্যাশ/চেক জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয়ত: ক্যাশ পাঠানো যাবে-বিকাশ: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪, ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। রকেট: ০১৭১৬২০৫৩০৪০। এজেন্ট ব্যাংকিং নাম্বার: ৭০১৭৫১১৭৬০৬২৭ (ডাচ-বাংলা ব্যাংক)।


    ● সাক্ষাৎকার
    ● শিক্ষা সংবাদ
    ● সারাদেশ
    ● জাতীয়
    ● রাজনীতি
    ● আন্তর্জাতিক
    ● সাহিত্য চর্চা
    ● চাকরীর তথ্য
    ● ব্যাংক-বীমা অর্থনীতি
    ● সম্পাদকীয়
    ● শুভ বাংলাদেশ
    ● সুধীজন কথামালা
    ● বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি
    ● প্রতিষ্ঠান পরিচিতি
    ● শিক্ষক কর্ণার
    ● শিক্ষার্থী কর্ণার
    ● সফলতার গল্প
    ● বিশেষ প্রতিবেদন
    ● নিয়মিত কলাম
    ● মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
    ● অনিয়ম-দুর্নীতি
    ● ভর্তি তথ্য
    ● বিনোদন
    ● লাইফস্টাইল
    ● খেলাধুলা
    ● ধর্ম ও জীবন
    ● পাঠকের মতামত
    ● জন্মদিনের শুভেচ্ছা
    ● বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা
    ● শোকগাঁথা
    ● স্বাস্থ্যতথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য প্রকাশনী
    ● টিউটোরিয়াল
    ● ইতিহাসের তথ্য
    ● প্রবাসীদের তথ্য
    ● অন্যরকম তথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য পরিবার
    সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন
    ২২৩ ফকিরাপুল (১ম লেন), মতিঝিল, ঢাকা থেকে সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত
    এবং প্রিন্ট ভার্সন : আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরাপুল (১ম লেন), ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
    ফোন: ৭১৯১৭৫৮, মোবাইল: ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। বিজ্ঞাপন: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪,
    ইমেইল: shikshatotthow@gmail.com (নিউজ এন্ড ভিউজ), ad.shiksha2008.gmail.com (বিজ্ঞাপন)