
| Headline : |
|
কলেজ লেভেলে শিক্ষার্থী সংকট নয়, সমস্যা সমাধানে দরকার শুধু কিছু আইনের প্রয়োগ
বার্তা প্রেরক:- মো. কাজী জাফর হোসেন। শিমুলকান্দি ডিগ্রি কলেজ, মধ্যেরচর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ। শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
দৈনিক শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩) :-
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। যে দেশের জনগণ জন্ম থেকেই বিভিন্ন দিক দিয়ে যুদ্ধ করে তাদের জীবন যাপন করছেন। স্বাধীনতার পর এদেশের সকল সেক্টরে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে শিক্ষা সেক্টরে তেমন উন্নয়ন ঘটেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে ,অবকাঠামোগত দিকটাও বর্মানে সমৃদ্ধ হয়েছে, তবে ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিশাল ফারাক। দেশে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে ৪টি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো- প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এর স্তরে তেমন কোন সমস্যা না থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে রয়েছে রয়েছে স্তরগত ভিষণ সমস্যা। যার শিকার হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলো। ইদানিং দেশের অনেকগুলো জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে যে, “শতাধিক কলেজে এইচ এস সিতে ভর্তির জন্য কোন আবেদন পরেনি, বা ভর্তি হয়নি” কিন্তু কেন? এগুলোর অনুমোদন, স্বীকৃতি ও এম পিও তো ঠিক আছে, কিন্তু কেন শিক্ষার্থী পাচ্ছে না? এর জন্য কে দায়ী? ঐ কলেজগুলো না ঐ কলেজগুলোর শিক্ষকগণ? আমাদের এখন দেখতে হবে ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন? যেখানে ছাত্র-ছাত্রী আবেদন করে বোর্ডে ভর্তির জন্য বোর্ড ঐ আবেদেনের উপর ভিত্তি করে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ নির্ধারন করে দেয়, এ ক্ষেত্রে ঐ কলেজগুলো বা কলেজের শিক্ষকদের কি ই বা করার আছে? তাদের বের্ডের ভর্তি প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করা নেই। এ সমস্যার সমাধান করতে পারে একমাত্র বোর্ডই। প্রথমতঃ স্তর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স-মাষ্টার্স বিদ্যমান তাদের কি এইচ এস সি ভর্তি দরকার? এদের তো এইচ এস সি ছাড়াই অনার্স -মাষ্টার্সে অনেক শিক্ষার্থী ও বর্ষ রয়েছে এক্ষেত্রে এ সকল কলেজগুলোর এইচ এসসি ভর্তি যদি না হতো তবে ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলো অবশ্যই শিক্ষার্থী পেত। কিন্তু বর্মানে উল্টো চিত্র দেখছি আমরা, এ সকল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলো তাদের আসন সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি করে এইচ এস সির ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করাচ্ছেন এবং পার্টটাইম শিক্ষক রেখে পাঠ দান করাচ্ছেন। এতে মানা হচ্ছে না জনবল কাঠামোর নিয়ম। ফলে শিক্ষার্থী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট কলেজগুলো, ভালো মানের শিক্ষক থাকার পরও তারা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থী। আর শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক শিক্ষা থেকে। দ্বিতীয়ত: জনবল কাঠামো অনুযায়ী যদি বোর্ড শিক্ষার্থী নির্ধারন করে দিত তবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী পেত। কলেজ এর প্রতি বিষয়ের শিক্ষক প্রতি যদি শিক্ষার্থী ৬০ জন করে হলে যে কলেজে বিভাগে এজন শিক্ষক তাদের আসন হবে ৬০জন, যদি বিভাগীয় শিক্ষক ২জন হয় তবে আসন হবে ১২০ জন, সেক্ষেত্রে ৪০০/৫০০জন করে প্রতি বিভাগে কিভাবে ভর্তি হয়? কিভাবে একটি কলেজের আসন সংখ্যা ১০০০/১২০০জন হয়। প্রতি বিভাগে ২জন করে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক হলে সর্বোচ্চ একটি কলেজের আসন সংখ্যা হওয়ার কথা ৪৮০জন। সেখানে ১০০০/১২০০ ভর্তি হলে তো অন্য প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী কম পাবেই। ৪৮০ জন শিক্ষার্থী হলেও কমন বিষয় গুলোর শিক্ষকদের (বাংলা,ইংরেজি ও আইসিটি) ছাত্রসংখ্যা হয় ৪গুণের সমান,যাদের ক্লাস নিতে ঐ বিষয়ের শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হবে। বিগত করোনা কালে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে আসংখ্যাজনক হারে। ফলে অনেক মফশ্বলের কলেজে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় শহরের ও সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজগুলো প্রতিবছরই আসন সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঐ কলেজমুখী হচ্ছে, বোর্ড যেহেতু ভর্তির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেহতেু মফশ্বলের কলেজ বা শিক্ষকদের কিছু করার থাকে না। উপরন্ত পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকার দায়ে তাদের শাস্তি পেতে হচ্ছে, যাহা সম্পূর্ণ অমানবিক ও অন্যায় একটি প্রকৃয়া। কিন্তু যদি ব্যবস্থাপনা বা নীতিমালায় একটু যৌক্তিক পরিবর্তন আনা হয় তবে কোন কলেজেই আসন খালি থাকবেনা। * জনবল কাঠামো মেনে যদি কলেজগুলোর আসন/সিট নির্ধারন করা হয় তবে কোন কলেজেই সিট/আসন ফাকা থাকবেনা। অর্থাৎ বিষয় ভিত্তিক বা বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষকদের অনুপাত অনুযায়ী ছাত্র ভর্তির কোটা/ আসন বন্টন ও সে অনুযায়ী আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড শিক্ষার্থী বন্টন করলে সকল কলেজই কাঙ্খিত ছাত্র/ছাত্রী পাবে। যেমনটি অনার্সের ভর্তির ক্ষেত্রে করা হয়। * জনবল কাঠামো বৃদ্ধি পেলেই শুধুমাত্র আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাবে, এ নীতিমালার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ফলে আসন সংখ্যা একই থাকবে এবং শহরের পাশাপাশি গ্রামের কলেজগুলোতেও সমহারে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। যাতে শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে। * শিক্ষার স্তর গত দিক বিবেচনা করে যদি অনার্স-মাষ্টার্স অনুমোদনপ্রাপ্ত কলেজগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় এইচ এসসি ভর্তি না করা হয় তবে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ গুলোর ছাত্র সংকট আর থাকবে না। আসলে অনার্স-মাষ্টার্স লেভেলের কলেজগুলোতে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তি করানো কি যুক্তিযুক্ত? আসলে মাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার জন্য দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও স্কুল এন্ড কলেজ। তাই এইচ এসসি এর শিক্ষার্থী ভর্তির প্রধান দাবীদার হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু এই নিয়ম মানা হচ্ছে না ফলে বর্তমানে উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো অনার্স-মাষ্টার্স ভর্তি তো করছেনই পাশাপাশি এইচ এস সির অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছেন, যাতে বর্তমান সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। বোর্ডগুলো যদি আসন ও ভর্তির বিবেচনায় সর্প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোকে বিবেচনা করতো তবে হয়তো সংবাদ পত্রের শিরোনাম হতো না যে, “শতাধিক কলেজ এইচ এস সির শিক্ষার্থী পায়নি” যারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করছেন তারা বিবেচনা করে অবশ্যই দেখবেন। কেননা এখন বিবেচনা করা সময় এসেছে , নতুন নতুন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, বর্তমান সরকার এবারও প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠান এম পিও করেছেন। এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষর্থীদের সমহারে বন্টন করে ভর্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবী। শিক্ষক নিয়োগ সরকার দিচ্ছেন আর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রক্রিয়াও বোর্ড করছে তাই এ সমস্যার সমাধান শিক্ষা মন্ত্রনালয় খুব সহজে নীতিমালার মাধ্যমে করতে পারে। পরিশেষে বলা যায় যে, বর্তমান পদ্ধতিতে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষককে যদি শাস্তি প্রদান করা হয় তবে তা হবে অমানবিক। তাই এই সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষা নীতি নির্ধারক, তথা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট্য কর্তা ব্যক্তিদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। আমরা আশা করছি সুন্দর নীতি মালার মাধ্যমে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে। - মোঃ কাজী জাফর হোসেন সহকারী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা) শিমুলকান্দি ডিগ্রি কলেজ, মধ্যেরচর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ। |