
| Headline : |
|
দারিদ্রতা কে হার মানিয়ে পিতৃ-মাতৃহীন সাদিয়া সুলতানা জিপিএ-৫ পেয়েছে
বার্তা প্রেরক:- সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া, রংপুর । শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২২ জুন, ২০২০) :-
![]() অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী। দরিদ্রতা ওর নিয়তি। নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন ওর চোখে মুখে। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেও উচ্চ শিক্ষা কিভাবে গ্রহন করবে, অর্থের যোগান হবে কী ভাবে সে চিন্তায় ওকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাজের বিত্তবানদের একটু সহানুভুতিই পারে গঙ্গাচড়ার মেধাবী ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা কে আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন পূরনে সাহায্য করতে। সাদিয়া সুলতানার পেটে ভাত জোটতা না, পরনে চাহিদা মতো নুতন কাপড় থাকতো না। দরিদ্রতা আর নানা প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে গঙ্গাচড়ার মর্ণেয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাদিয়া জেএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ -৫ পেয়েছিল। উপজেলার মর্ণেয়া গ্রামের মৃত সফুর মিয়া ও মৃত আমেনা বেগমের কন্যা সে। ৩ ভাই ২ বোন নিয়ে তাদের সংসার। বসত ভিটাসহ ৫ শতাংশ জমি তাদের। পিতার মৃত্যুর পর পরেই মা ও মারা যায়। একারণে ভাইদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সবাই শ্রমিকের পেশা বেঁছে নেয়। সে মেঝভাই মিজানুরের হাড়িতে খায়। ভাইয়ের আয়ে কোন মতে সংসার চললেও বোনের উচ্চ শিক্ষার খরচ জুটবে কী ভাবে সে চিন্তায় দিবানিশি কাটে ভাই মিজানুরের। সাদিয়া তার পড়া লেখার খরচ জোগাতে বিভিন্ন বাড়িতে প্রাইভেট পড়িয়ে এতোদিন অর্থ জোগার করে। দরিদ্রতার কারন ১ বোনকে না পড়িয়ে সব ভাই মিলে বোন কে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। বোনের অনেক স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে বড় হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের অর্থের যোগান হবে কি ভাবে ? অর্থের অভাবে সাদিয়ার শিক্ষার প্রদীপও নিভে যেতে পারে। তার স্বপ্ন পূরনে এখন বড় বাঁধা দারিদ্রতা। এ বাঁধা ডিঙ্গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরন হবে কিনা সে চিন্তাই এখন সারাক্ষন সাদিয়ার। সে ডাক্তার হতে চায়। সমাজের বৃত্তবানরাই পারে তার স্বপ্ন পুরন করতে। |