
| Headline : |
|
করোনাকালের বাজেটে শিক্ষা খাত
বার্তা প্রেরক:- অলোক আচার্য, শিক্ষক ও কলাম লেখক, পাবনা। শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (০৯ জুন, ২০২০) :-
![]() বার্তা প্রেরক:- অলোক আচার্য, শিক্ষক ও কলাম লেখক, পাবনা। শিক্ষাতথ্য ডটকম।। বাংলাশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আকারের বাজেট ঘোষিত হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট। দেশ আরও একটি বাজেট ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট পেশ করা হবে আগামী ১১ জুন। এমন এক পরিস্থিতিতে এই বাজেট ঘোষিত হতে যাচ্ছে যখন সারা বিশ^ই করোনার মহামারীর স্বীকার। বাংলাদেশেও করোনা দিন দিন তার থাবা বৃদ্ধি করে চলেছে। প্রতিটি সেক্টরে ক্ষতির প্রভাব রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের বাজেটে রয়েছে বিপর্যস্থ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে গত অর্থবছরের থেকে ৩৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই বাজেট হতে যাচ্ছে বিশাল একটি বাজেট। এবং এর বাস্তবায়ন অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার বাজেট ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। বাজেট একটি দেশের আশা আকাঙ্খার প্রতীক। বাজেট প্রনয়ণ নয় বরং বাজেট বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ হয় সরকারের জন্য। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই বাজেট ঘোষিত হয়। প্রায় সময়ই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাঁকির খবর আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই। অবস্থাটা এমন যে সরকারকে ফাঁকি দিতে পারলেই লাভবান হওয়া যায়। অথচ একজন নাগরিক হিসেবে, সচেতন মানুষ হিসেবে নিজ থেকেই ট্যাক্স দেওয়া উচিত বলে মনে করি। বাজেট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই মিডিয়াসহ সর্বত্র বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। আসছে বাজেট কেমন হবে এবং বিগত বাজেট কেমন ছিল বা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়েই এসব আলোচনা চলে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তারপর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। বহু উত্থানপতনের ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হওয়ার কাতারে দাড়িয়ে। সময়ের সাথে যেমন বেড়েছে লোকসংখ্যা, বেড়েছে প্রয়োজন আর সেইসাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাজেটের আকার। বাজেটের সাথে দেশের জনগণের জীবনমান ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। দেশের উন্নয়ন জড়িত। ফলে বাজেট একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাজেটের প্রভাব পরে বাজারে। কারণ বাজেটে কোন কোন জিনিসের দাম বাড়বে বা কমবে তা স্থির করা হয় এবং মিডিয়ার কল্যানে সেসব একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের ক্রেতা ও বিক্রেতারাও সেটি পড়ে থাকে। বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিও আমাদের দেশের একটি সাধারণ ঘটনা। এমনকি দাম বাড়ার কথা শুনেও অনেকে দাম বাড়িয়ে দেন। ২০১৯-২০ বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা যা জিডিপির মাত্র ২.১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই বাজেট ছিল ২.০৯ শতাংশ। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে শূণ্য ১ শতাংশ। চলতি বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে শিক্ষাখাত পুরোপুরি বন্ধ আছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেবার চেষ্টা হচ্ছে। করোনা পরবর্তী সময়েই এ খাতে ফিরতে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। এ খাতকে মহাগুরুত্বপূর্ণ বলছি এ কারণে যে শিক্ষার থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হয় না বলেই আমার মনে হয়। যতদিন শিক্ষাকে যুগোপযুগি এবং আন্তর্জাতিকমানের করা না যাবে ততদিন দেশ কাঙ্খিত সাফল্য পাবে না। ফলে এ খাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ তার জিডিপি’র যে অংশ ব্যয় করছে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিন্ম। প্রতিবেশী ভারত,পাকিস্থান,নেপাল,ভুটান,শ্রীলংকা,মালদ্বীপ এবং আফগানিস্থানও জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাতটিতে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের সব উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এসব অগ্রগতি শিক্ষাখাতে গতি আনবে। শিক্ষাখাতে এতসব সুখবর সত্তেও এই মহাজনগুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়। কারণ এই একটা খাত আরও অনেক খাতকে শক্তিশালী করতে পারে। আমরাও আশা করি এই খাতটি আরও বেশি বরাদ্দ পাক। বাজেটের সফলতা নির্ভর করে বাজেট বাস্তবায়নের ওপর। সেটি কতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে সেটি বিবেচ্য। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়তো সম্ভব নয় তবে যত কাছাকাছি বাস্তবায়ন করা যায় ততই বাজেটের সুফল সাধারণ জনগণ ভোগ করবে। শিক্ষা এবং প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রত্যাশা করি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা। |