
| Headline : |
|
কুয়াকাটার আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য পালতোলা নৌকাটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে
বার্তা প্রেরক:- গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২০ সেপ্টেম্বর) :-
![]() কুয়াকাটার আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য পালতোলা নৌকাটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছেকুয়াকাটার আদিবাসী রাখাইনদের আড়াইশ’ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহীপালতোলা নৌকাটি। প্রত্নতাত্ত্বিক এ নিদর্শনটি সংরক্ষনের জোরালো দাবীউঠেছে স্থানীয় সাধারন মানুষ ও কুয়াকাটায় আগত পর্যটক-দর্শনার্থীদের পক্ষথেকে। জানা যায়, প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন স্বরুপ আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যের পালতোলা নৌকাটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয় খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। নৌকাটিনতুন করে পূর্বের আদলে তৈরী করে দর্শনার্থীদের জন্য কুয়াকাটার কেরানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের পাশে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাদুঘর নির্মানেরউদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর জমি অধিগ্রহন করে টিনশেড একচালা একটি ঘর নির্মানকরে ২০১৩ ইং সালের ২১ আগস্ট প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিক ভাবে এটিদর্শনার্থীদের জন্যউম্মুক্ত করে দেয়। এরপর আর কোন তদারকি নেই সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষের। টিনের ওই একচালা ঘরটি ঝড় বাতাসে ভেঙ্গে পরে যাওয়ায় গত দুইবছর ধরে বৃষ্টিতে ভিজে ও প্রখর রোদে নষ্ট হয়ে গেছে নৌকাটি। আস্তে আস্তেনৌকাটির অংশ বিশেষ খুলে গিয়ে আদিবাসীদের স্মৃতি বিজড়িত কথিত সোনারপালতোলা নৌকাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের কাছে আদি নিদর্শন হিসেবে অন্যতম পালতোলা এইনৌকাটি স্বাক্ষ্য বহন করে। রাখাইনদের আদি নিদর্শন ও ইতিহাস ঐতিহ্যেরস্বাক্ষ্য বহনকারী নৌকাটির বেহাল দশা দেখে এখন পর্যটকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দ্রুত এ যাদুঘরটি সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে অচিরেইপালতোলা নৌকাটি হারিয়ে যাবে বলে এমনটাই মনে করছেন পর্যটক সহ স্থানীয়দের। স্থানীয় রাখাইনদের মতে, কুয়াকাটার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রাখাইনদের কালেরস্বাক্ষী পাল তোলা এই নৌকায় করে প্রায় পৌনে তিন’শ বছর আগে মায়ানমারেরতৎকালীণ আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলেরবিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেন রাখাইনরা। রাখাইনদের সূত্রে আরো জানা যায়, ওই সময় নৌকাটি সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত ছোটখালের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় নৌকাটি তলিয়েগিয়ে আস্তে আস্তে বালুর নীচে হারিয়ে যায়। কালের বির্বতনে আড়াইশ বছর পরেআশির দশকে পালতোলা নৌকাটি গরু মহিষের পানির চাহিদা মিটাতে কুয়া খুঁড়তেগিয়ে রাখালদের নজরে আসে। তখন স্থানীয়রা নৌকাটি উত্তোলনের চেষ্টা করেব্যর্থ হয়। কথিত রয়েছে নৌকাটি তুলতে গিয়ে এক ব্যক্তি মারাও যান। নৌকাটিউদ্ধার নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ভৌতিক ও কাল্পনিক নানা কল্প কাহিনীর গল্পশোনা গেছে। নৌকাটি আবার মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। এরপর সমুদ্রের রুদ্র রোষে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অব্যাহত ভাঙ্গনে বালুমাটি সরে গিয়ে ২০১০ইং সালের শেষের দিকে ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট প্রস্তবিশাল এই পালতোলা নৌকাটি আবার দৃশ্যমান হয় জনসম্মুখে। ওই সময়ে নৌকাটিনিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে লেখালেখির পর এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরেআসে। ২০১৩ইং সালের ২৭ জানুয়ারী সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অর্থয়ানেপত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নৌকাটি মাটি থেকে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায়কোটি টাকারও বেশি খরচ করে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করেকুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন টিন শেড একচালা একটি স্থাপনা তৈরীকরে সেখানে রাখা হয়। কুয়াকাটা যাদুঘর নামে নাম করণ করা হয় এটির।কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন ভীড় জমায় সেখানে। এদিকে খুলনা বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, আড়াইশ বছরপুর্বে নৌকাটি যে আদলে গড়ে তোলা হয়েছিল গবেষণা করে নতুন করে ওই আদলে গড়েতোলার জন্য গবেষক দল কাজ করছেন। তবে কবে নাগাদ গবেষনা শেষে আবার নৌকাটিরপুন:নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে সেটি স্পষ্ট করেনি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। বরিশাল ও খুলনার দায়িত্বে থাকা পত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালকআফরোজা খান মিতা বলেন, কুয়াকাটার পালতোলা জাহাজটির সংস্কার এবং যাদুঘরেরভবন নির্মাণের কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হবে আশা করছি। |