
| Headline : |
|
=== যে কথা যায়না বলা সহজে====
------ কামরুন নাহার পলিন------
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২৮ আগস্ট) :-
পশু তার পশুত্ব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, পাখী তার পাখীত্ব নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। একমাত্র মানুষ তার মনুষত্ব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। পশুকে পশু হতে হয়না, সে এমনিতেই পশু। কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয় বহু সাধনায়। মানুষ সকল সৃষ্টির সেরা, মহান আল্লাহ্পাক মানুষকে আগুন বা নুর দিয়ে তৈরী করেননি, মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন। কারণ মাটির মধ্যে রয়েছে সব শ্রেষ্ঠ গুন। আমরা ময়লা-আর্বজনা মাটিতে ফেলে দেই, মাটি তাকে নিজের মত করে নেয়। মাটিতে বীজ বুনে দেই, মাটি সেটিকে বৃদ্ধি দান করে। মাটির বুক চিরে আমরা চাষাবাদ করি, মাটির বুকের গভীরে যত মূল্যবান সম্পদ আছে তা কেঁড়ে নিলেও সে কিছু বলেনা, মুখ বুজে সব সহ্য করে। মাটির গভীরে আগুনও আছে, যা চাপা দিয়ে রেখে তার উপর গড়ে তুলেছে আমাদের জন্য সবুজের সমারোহ। তাই একজন সত্যিকার মানুষের মত মানুষ হতে হলে তার মাটির মত সকল গুনাবলী থাকতে হবে। যে গাছের শিকড় যত বড় ও সে গাছটিও তত বড় ঠিক তেমনি যে মানুষের ভিতর যত বেশি মানবিক গুনাবলী আছে সে মানুষ তত বড় । যে ইস্পাতে যত বেশি আয়রন সে তত বেশি দামী। শ্রেষ্ঠ মানুষের শ্রেষ্ঠ গুন, সফল মানুষের সফল গুন হল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি (প্রো-অ্যাকটিভ এট্যিচ্যুড) । এর অর্থ হচ্ছে যে কোন অবস্থায় উত্তেজিত , আবেগ তাড়িত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় স্বিদ্ধান্ত নেয়া। ইতিবাচক মানুষ জানে যে সে যেভাবে এ পৃথিবীতে এসেছিল ঠিক সেই ভাবেই তাকে একদিন চলে যেতে হবে। তাই সে কখনো কারো ক্ষতি করে যেতে চায় না। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ তার শত্রুরও উপকার করে মন জয় করতে চায়। সে জানে যে এ পৃথিবীতে কোন কিছুই বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। মানুষ কে দিলেই সে আপনাকে দিবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ নিজেকে বদলাতে চায়, ইতিবাচক গুনগুলো নিজের মাঝে ধারণ করতে চায়, সে অন্য কাউকে বদলাতে চায় না। কারণ সে জানে যে তার পরিবর্তনের দ্বারা তার আশে-পাশের মানুষের জীবন যাত্রায়ও পরিবর্তন ঘটবে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ জয় চায় তবে কাউকে পরাজিত করে নয়। সে বড় হতে চায় তবে কাউকে ছোট করে নয়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের চিন্তাধারা হয় প্রচন্ড রকমের পজেটিভ। তার চিন্তাধারার প্রাচীর ভেঙ্গে তার মাঝে নেগেটিভ চিন্তার প্রবশ করানো প্রায় অসম্ভব। যেহেতু ভবিষৎকে আমরা কেউই দেখিনা তাই ভবিষৎ নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা কখনোই করে না । প্রো-অ্যাকটিভ মানুষেরা কখনোই অন্যের কথায় চলে না। তার নিজস্ব বিচার বুদ্ধি ও বিশ্লেষন করে স্বিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। প্রো-অ্যাকটিভ মানুষ জানে যে আবেগ মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই সে তার আবগকে বিবেক দিয়ে ঢেকে রাখে। সে কখনোই তার নিজের ব্যার্থতাকে অন্যের উপর চাপায় না। পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যের মাঝে মানুষই সুন্দর। মানুষ চাইলে তার সকল আচরন ও অভ্যেস নিয়ন্ত্রন করতে পারে। মানুষের অভ্যেস পরিবর্তনের দরজা থাকে তার ভিতরের দিকে। তাই মানুষকে তার ভিতরের দরজা খুলতে হবে। সফলতা সব মানুষের দরজায়ই কড়া নাড়ে।। (লেখক: শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক) |