মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা ২০০৮ সাল থেকে প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত হচ্ছে যার রেজি: ডি.এ. নাম্বার: ৫০৮৫, ঢাকা
প্রিন্টিং সংস্করণ
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
মহাআনন্দের দিনে সবচেয়ে বেশি নিরানন্দ সময় পার হচ্ছে
শিক্ষাতথ্য সম্পাদকের ঈদের দিনেই দশম বিবাহবার্ষিকী
Published : Wednesday, 5 June, 2019 at 7:26 PM



বিবাহের দশ বছর পূর্ণ হলো আজ, ৫ জুন। একদিকে পরিবেশ দিবস, মুসলমানের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন ঈদ-উল-ফিতর, অন্যদিকে বিবাহবার্ষিকী, তাও আবার কানায় কানায় দশ বছর পূর্ণ হলো। সেই ঈদের দিনেই আমাদের দশম বিবাহবার্ষিকী, আজকের দিনটি আমাদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন, মধুরদিন। কিন্তু সেই আনন্দের দিনে আমি সবচেয়ে বেশি নিরানন্দ সময় পার করছি।

আমার বয়স তখন প্রায় ঊনচল্লিশ। ২০০৯ সালের এই দিনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুভ বিবাহের কাজটি সুসম্পন্ন হয়েছিল। আমার সহধর্মিণী রেশমা আক্তার জলি, পৈতৃকসূত্রে নরসিংদীর মেয়ে। বর্তমানে উত্তরার দক্ষিণখানেই তাঁদের আবাস। সেখানেই আমাদের শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। সেই ভালোবাসার মেয়েটি আমার সব আশাই পূর্ণ করেছে। ২০১০ সালের ৩ মার্চে আমাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। ফুটফুটে কন্যা সন্তানটির নাম রাখতে আমরা অনেক গবেষণা করেছি। বই কিনে এনে নাম যাচাই-বাছাই করেছি, অর্থ বাছ-বিচার করে অবশেষে নাম রাখি- তাশফিয়া তাবিয়া তুবা। আমার প্রথম বাসনা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামিন মেয়েটির মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন।

দ্বিতীয় সন্তানটি উপহার দিয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের মনের বাসনা পূর্ণ করে দেন। ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর, মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল-জাবির জন্মগ্রহণ করে। একটা পরিপূর্ণ সংসার, সুন্দর সংসার। সেজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানায়।

আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, প্রায় ৩৯ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। এমন বেশি বয়সে বিয়ে করার অনেক কারণ ছিল। প্রথমত: সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া। 



এখন মনে পড়ে, অভাবের তাড়নায় না বুঝে না শুনে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে যোগদান করে জীবনে কত বড় ভুলই না আমি করেছিলাম। সংক্ষিপ্তভাবে এবিষয়ে বলা প্রয়োজন যে, ১৯৯৪ সালের অনার্স এবং ১৯৯৫ সালের মাস্টার্স সম্পন্ন করে বের হতে সময় লাগে ১৯৯৯ সাল। সাড়ে আট বছরের সেশন জটের ঝামেলা মিটিয়ে ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হই। মাস্টার্সের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শেষ করার পূর্বেই এক চিটারের আহ্বানে সাড়া দিতে তার পত্রিকা অফিসে চাকুরী নিই। ছয় মাসের মাথায় নির্বাহী সম্পাদকের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন শুরু করা ছিল আরো বড় ভুল। বেশ কয়েকটি সার্কুলারের বিপরীতে চাকুরীর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু তখনও বুঝিনি যে, তৈল মর্দন ও ঘুষের লেনদেন ছাড়া চাকুরী পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ২২তম বিসিএস-এর ভাইভার সম্মুখিন হয়েও সে চাকুরীটা নিতে পারিনি। আবার সেসময় ব্যাংকেও সহজেই চাকুরী নেওয়া যেত। কিন্তু দুর্নীতি করে, ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেয়ার আগ্রহ আমার কখনো হয়নি। তাইতো সেসময় বাবা-মায়ের দিতে চাওয়া আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে চাকুরী নিইনি। কারণ সেসময় ৫ লাখ টাকা জোগাড় করতে বাবা-মাকে প্রায় ১০-১২ বিঘা জমি বিক্রি করতে হতো। আর চাকুরীর গুরুত্বটাও তখন বুঝিনি। 



বরাবরই আমি একজন অপরিপক্ক মানুষ। যেকোন বিষয়ে পরিপক্কতা আসতে আমার সময় লাগে। তবে লোভ বেশি, অনেক টাকা লাগবে- এই ধারণা থেকে ব্যবসা করার ইচ্ছেও ছিল বেশি। কিন্তু সবার দ্বারা ব্যবসার সফলতা সহজে আসেনা। আমি তাদের মধ্যে একজন। আর পত্রিকা নিয়ে, প্রেসের ব্যবসা নিয়ে সহজেই সফলতা যে অর্জন করা যায় না তাও নয়। আমিও পারি, কিন্তু অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ-উপার্জন করা কিংবা অন্যদের মতো নারী দিয়ে ব্যবসা করার মনমানসিকতা কখনোই ছিল না। সৎ পথে থেকে কষ্ট আছে, ব্যবসায়িক সফলতাও দেরীতে আসে -সেটা আমি জানি। তবে সৎভাবে আমি আবারও ব্যবসায়িকভাবে সফল হতে চাই এবং সফল হবো ইনশা-আল্লাহ্। 

সেদিনের কথা, ২০০৮ থেকে ২০১২, মোট বছর পাঁচেক ব্যবসার স্বর্ণযুগ ছিল আমার। হঠাৎ ব্যবসায় ধস। আস্তে আস্তে ব্যাংকে জমানো টাকার ভান্ডার কমতে থাকে। এখন শূন্য এবং নেগেটিভ। ব্যবসা করে যা আয় করি তার চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি। কারণ বাসা ভাড়া, অফিস ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা ও সাংসারিক খরচ  ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও আজকের এমন একটা শুভ দিনে ‘দশম বিবাহবার্ষিকী’র আগমন সত্যি একজন সৌভাগ্যবান মানুষ না হলে হয় না। আর এমন শুভ দিন ভবিষ্যতে আমাদের জীবনে আসবে বলে মনে হয়না। এজন্য হাজার হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। কিন্তু এমন শুভ দিনে, মহাআনন্দের দিনে আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি নিরানন্দ সময় পার করছি। তারপরও ঈদের দিনে ‘দশম বিবাহবার্ষিকী’র মতো বিশেষ শুভদিনের সম্মিলন ঘটায় সকলের নিকট শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।

-মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাসিক শিক্ষাতথ্য 
এবং
অনলাইন ডেইলি নিউজ পোর্টাল ‘শিক্ষাতথ্য ডট কম’
www.shikshatotthow.com



  


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশকের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনী।



সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহ্য ও ঐক্যের বন্ধনে মৌলভীবাজার জেলা সমিতি
কক্সবাজারের ইনানীতে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক টাওয়ার সম্বলিত ফাইভ স্টার হোটেল এন্ড রিসোর্ট
মায়ের আদেশে প্রতিদিন পাঁচজন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান তরফদার
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত : চিকিৎসা সেবা পেলেন অর্ধশতাধিক রোগী
সর্বাধিক পঠিত

  • ফেসবুকে আমরা
    বিশেষ জ্ঞাতব্য: বিজ্ঞাপন ও অনুদানের চেকটি Masik ShikshaTotthow নামে A/C Payee প্রদান করতে হবে। অথবা হিসাবের নাম: মাসিক শিক্ষাতথ্য (Masik ShikshaTotthow), হিসাব নাম্বার: ৩৩০২২৩৮৪, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, শিল্পভবন কর্পোরেট শাখা, ঢাকা”-তে অনলাইনে ক্যাশ/চেক জমা দেওয়া যাবে। তৃতীয়ত: ক্যাশ পাঠানো যাবে-বিকাশ: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪, ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। রকেট: ০১৭১৬২০৫৩০৪০। এজেন্ট ব্যাংকিং নাম্বার: ৭০১৭৫১১৭৬০৬২৭ (ডাচ-বাংলা ব্যাংক)।


    ● সাক্ষাৎকার
    ● শিক্ষা সংবাদ
    ● সারাদেশ
    ● জাতীয়
    ● রাজনীতি
    ● আন্তর্জাতিক
    ● সাহিত্য চর্চা
    ● চাকরীর তথ্য
    ● ব্যাংক-বীমা অর্থনীতি
    ● সম্পাদকীয়
    ● শুভ বাংলাদেশ
    ● সুধীজন কথামালা
    ● বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি
    ● প্রতিষ্ঠান পরিচিতি
    ● শিক্ষক কর্ণার
    ● শিক্ষার্থী কর্ণার
    ● সফলতার গল্প
    ● বিশেষ প্রতিবেদন
    ● নিয়মিত কলাম
    ● মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা
    ● অনিয়ম-দুর্নীতি
    ● ভর্তি তথ্য
    ● বিনোদন
    ● লাইফস্টাইল
    ● খেলাধুলা
    ● ধর্ম ও জীবন
    ● পাঠকের মতামত
    ● জন্মদিনের শুভেচ্ছা
    ● বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা
    ● শোকগাঁথা
    ● স্বাস্থ্যতথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য প্রকাশনী
    ● টিউটোরিয়াল
    ● ইতিহাসের তথ্য
    ● প্রবাসীদের তথ্য
    ● অন্যরকম তথ্য
    ● শিক্ষাতথ্য পরিবার
    সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন
    ২২৩ ফকিরাপুল (১ম লেন), মতিঝিল, ঢাকা থেকে সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত
    এবং প্রিন্ট ভার্সন : আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, ২২১ ফকিরাপুল (১ম লেন), ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।
    ফোন: ৭১৯১৭৫৮, মোবাইল: ০১৭১৫৬৬৫৫৯২। বিজ্ঞাপন: ০১৮১৯১৪৩৬৬৪,
    ইমেইল: shikshatotthow@gmail.com (নিউজ এন্ড ভিউজ), ad.shiksha2008.gmail.com (বিজ্ঞাপন)