
| Headline : |
|
আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন মাষ্টার
প্রধান শিক্ষক (অব.)
গোলাপগঞ্জ, সিলেট
|
![]() আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন প্রধান শিক্ষক (অব.) গোলাপগঞ্জ, সিলেট আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন মাষ্টার ১৯৫৩ সালের ১৮ মার্চ সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাধীন ঘোষগাঁও গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মরহুম মৌলভি কছির আলী ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। পিতা-মাতার আশীর্বাদ ও অনুপ্রেরণা নিয়েই তিনি শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিনের পিতা ছিলেন-মরহুম মৌলভী কছির আলী ফুলবাড়ী আলীয়া মাদ্রাসা হতে (প্রাচীনতম) ৬ষ্ঠ শ্রেণী পাশ করে আর পড়াশোনা করেননি। মা-বুলু বিবি বিয়ানীবাজার কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন দ্বিতীয়। আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামেই। তিনি গ্রামের স্কুলে ২য় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে তিনি রণকেলী ১ং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন এবং সরকারী প্রাথমিক বৃত্তি পান। ১৯৬৩ সালে সুনামধন্য গোলাপগঞ্জ এম.সি একাডেমী (স্কুল ও কলেজ) ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। একই বৎসর তাঁর মাতার মৃত্যু হয়। এম.সি একাডেমীতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এবং পরে তিনি সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখান থেকে সুনামের সাথে ১৯৬৭ সালে এস.এস.সি ১ম বিভাগে পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৬৯ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিনের কর্ম জীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালের ১৩ মার্চ। তিনি সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার কাশিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এখনও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তাঁর মরহুম পিতার সেই কথা। তাঁর পিতা বলেছিলেন, শিশুদের প্রতি কখনও কোন অবিচার করবে না। তাদের প্রতি যত্নবান হয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেকে সর্বদা আত্মনিয়োগ করবে। পিতার আদেশ তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। ১৯৭৫ সালে ১৩ জানুয়ারী নিজ এলাকার স্বরস্বতী গ্রামের হাজী জছির মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর হতে উক্ত প্রতিষ্ঠান একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ লাভ করে। তাঁর প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় শিক্ষক স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত হাজী জছির আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৭৭ সালে ২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। এরপর থেকে প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রযাত্রায় আর পিছিয়ে পড়েনি। এক পর্যায়ে উপজেলা তথা জেলার মধ্যে হাজী জছির আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি স্বনামধন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। পরে তিনি বিভিন্ন ১৯৯৩ সালে ঘোষগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বৃত্তি লাভে বঞ্চিত হলেও তাঁর সময়ে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১৬টি বৃত্তি লাভ করে। আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন মাষ্টার ১৯৯৮ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে রণকেলী ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সিলেট জেলা তথা বাংলাদেশের মধ্যে স্বনামধন্য ও সচেতন এলাকা হিসেবে রণকেলীর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। আলহাজ্জ্ব রফিক উদ্দিন মাষ্টার রণকেলী ১নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নিজেকে ধন্য ও গর্বিত মনে করেন। কারণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই তার শিক্ষাজীবন শুরু। পারিবারিক জীবনে আলহাজ্জ্ব মো. রফিক উদ্দিন মাষ্টার মিসেস রাছনা বেগমের সাথে ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর সহধর্মিণী মোছা. রাছনা বেগম ক্লাশ ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, একজন আদর্শ গৃহিণী। তাঁরা ৫ সন্তানের জনক। সন্তানেরা হলেন-(১) মো. অজিহ উদ্দিন; এম.এ, এল.এল.বি, বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী । (২) মো. নাছির উদ্দিন; এম.কম ১ম শ্রেণী, বর্তমানে শিক্ষক। (৩) মো. নাজির উদ্দিন; বি.বি.এল, লুটন ইউনিভার্সিটি, লন্ডন (৪) সাহেদা ইয়াছমিন, বি.এ, বর্তমানে লন্ডন। (৫) নুসরাত জাহান, বি.এ, বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। |