
| Headline : |
|
‘নারী উন্নয়ন ফোরাম’ এর মাধ্যমে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই
শরণখোলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা খুবই খারাপ
-মোসা. রাহিমা আকতার হাসি,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান; শরণখোলা, বাগেরহাট
|
|
প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ যার সম্পর্কে বলা হলো তিনি হলেন শরণখোলা উপজেলার বলিষ্ঠ নারী কন্ঠস্বর, শরণখোলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস রাহিমা আকতার হাসি। যিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন জনসেবা ও নারী কল্যাণে। এমনই এক জননেতার মুখোমুখি হই মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার ‘শরণখোলা উপজেলা বিশেষ সংখ্যা’র প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকারের জন্য। তিনি শিক্ষা সহ বিভিন্ন বিষয়ে করলেন নানা মন্তব্য। এখানে তার সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো: শিক্ষাতথ্য: মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে কী দূর অবস্থা আপনি লক্ষ্য করেন? মোসা. রাহিমা আকতার হাসি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, শরণখোলা উপজেলা, বাগেরহাট: বছর খানেক আগের চেয়ে বর্তমানে শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা একটু উন্নত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা তো ভয়াবহ খারাপ। প্রত্যেক সপ্তাহে অফিসারদেরকে সেখানে যেতে বলি, দেখতে বলি ঐখানের শিক্ষার এত দুরবস্থা কেন। তারা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেন। আমার ধারণা যে, আগের চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা একটু উন্নত হলেও আমাদের চেষ্টা করতে হবে এই উন্নত অবস্থাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। শিক্ষাতথ্য: প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কী সমস্যা রয়েছে বলে আপনার মনে হয়? রাহিমা আকতার হাসি: আমাদের শরণখোলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ আমাদের এখানে শিক্ষক স্বল্পতা প্রকট। যেখানে পাঁচজন শিক্ষকের প্রয়োজন সেখানে রয়েছে একজন শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর তুলনায় আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা এখানের একটা বড় সমস্যা। শিক্ষাতথ্য: শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কার কী করণীয় বলে আপনি মনে করেন? রাহিমা আকতার হাসি: শিক্ষক কমিটির মিটিংয়ে আমরা শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যাটি তুলে ধরেছি। আমরা সাধারণত যে স্কুলে শিক্ষক অন্যান্য স্কুলের তুলনায় বেশি আছে সেখান থেকে কিছু শিক্ষক নিয়ে যে স্কুলে শিক্ষক সংকট আছে সেখানে নিয়ে যাই। দেখা যায়, আমাদের দেশনেত্রী শেখ হাসিনা শরণখোলার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের প্রাইমারি পর্যায়ের কিছু শিক্ষক নেয়া হবে। এজন্য আমরা আশাবাদী ভবিষ্যতে শিক্ষক সংকট অনেকটা কেটে যাবে। শিক্ষাতথ্য: শরণখোলা উপজেলার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকার কথা বলবেন কী? রাহিমা আকতার হাসি: শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বলবো- আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আমাদের অফিসার যারা আছেন তারা তাদের কাজ করবেন। আর আমরা যারা কমিটিতে আছি তারা প্রতি সপ্তাহে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করবো, সেখানকার কী অবস্থা এবং তার সমাধান নিয়ে আমরা আলোচনা করবো, তার প্রতিকার বের করার চেষ্টা করবো। আশা করি এতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে। শিক্ষাতথ্য: মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের কল্যাণে কী কী কাজ করার সুযোগ আপনার হয়েছে? রাহিমা আকতার হাসি: আমি ২০১৫ সালে মাহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দেখেছি, আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে ‘নারী উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন করে দেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা আমার উপজেলায় গরিব অসহায় মেয়েদের শিক্ষা বৃত্তি দেই। যারা কর্মঠ তাদেরকে সেলাই মেশিন দেই, বিধবাদের হাঁস-মুরগী প্রতিপালনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করি। আরকেডিএস পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ, শরণখোলা মহিলা মাদরাসার বাউন্ডারী দেয়াল করা সহ বিভিন্ন কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছি। তারপর প্রাথমিক ও হাই স্কুলগুলোতে হারমোনিয়াম দিয়ে মেয়েদের গান ও সংস্কৃতি চর্চায় আমি উৎসাহিত করে থাকি। এ ছাড়া বাল্য বিবাহের শিকার হয়েছে এমন পাঁচ জন মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব আমি নিয়েছি। আমি সংগঠন থেকে শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাদের খরচ দেই। শিক্ষাতথ্য: শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন বা পরিকল্পনার কথা বলবেন কী? রাহিমা আকতার হাসি: ভবিষ্যতে আমি আমার সংগঠন ‘নারী উন্নয়ন ফোরাম’ এর মাধ্যমে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই। স্কুল জীবন থেকেই আমি বিভিন্নভাবে সেবামূলক কাজ করেছি। যেমন কেউ হোস্টেল ভাড়া দিতে পরছে না বা কারো পরনে ভাল জামা নেই, বা কেউ হোস্টেল খরচ এবং স্কুলের বেতন দিতে পারছে না, তখন আমরা যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলাম তারা সবাই মিলে তাদের খরচ দিয়ে চালাতাম। এছাড়া পারিবারিকভাবেও আমরা রাজনীতিতে এগিয়ে আছি। আমার ছোট ভাই সুমন তালুকদার, বর্তমানে সে ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারী এবং ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার। আমরা পরিবারের সবাই সব সময় অসহায়দের পাশে দাঁড়াই এবং সাহায্য করি। রাহিমা আকতার হাসির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মিসেস রাহিমা আকতার হাসি শরণখোলা উপজেলার ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ১৯৭৯ সালে। তার পিতা আলহাজ্ব মরহুম মোশাররফ হোসেন তালুকদার এবং মা রওশন আরা বেগম। তারা দশ ভাই বোন। মিসেস রাহিমা আকতার হাসির শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ১৯৯০ সালে আরকেডিএস পাইলট বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তারপর তিনি শরণখোলা ডিগ্রি কলেজেও পড়াশোন করেন। মিসেস রাহিমা আকতার হাসি স্কুল জীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গার্লস স্কুলে পড়াকালীন তিনি বড় বড় প্রোগ্রামে অংশ নিতেন। তিনি এরপর ২০১৫ সালে শরণখোলা মহিলা যুবলীগের সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। তারপর শরণখোলা উপজেলার নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি থেকে তিনি বিভিন্ন নারী সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন। এছাড়া আমি মানবাধিকার কমিশনেও জড়িত রয়েছেন। পারিবারিক জীবনে মিসেস রাহিমা আকতার হাসি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ব ছেলে শাহরিয়ার মান্নান সাগর, শরণখোলা ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ছোট মেয়ে শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটে নার্সারীতে পড়ে। তার স্বামী মো. গোলাম মোস্তফা মধু একজন রাজনীতিবিদ। |