
| Headline : |
|
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রতিটি স্কুল-মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী ডায়েরী’র প্রচলন ও যথাযথ বাস্তবায়ন করা উচিত
প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা-ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়বে
মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ, ভাইস-চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, শরণখোলা, বাগেরহাট
|
|
তিনি সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত সুশীল পরিবারের সন্তান। তারুণ্যের টগবগে তাজা রক্ত অন্যায় মেনে নিতে পারেন না। কারণ তার ভেতরে রয়েছে সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার দায়বদ্ধতা। তিনি কখনো অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে চান না, পারেনও না। তাইতো দুর্নীতিগ্রস্ত উপজেলা প্রকৌশলীকে পেটানো সহ তার বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি বিরোধী কর্মকান্ডের নিউজ পত্রিকার হেড লাইন হতো। তার উপজেলার বহু দুর্নীীতবাজ শিক্ষা অফিসারদেরও তিনি বদলী করিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ যার সম্পর্কে বলা হলো যে, তিনি সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক, শরণখোলা উপজেলার অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, সেই সাদা মনের কর্মঠ ব্যক্তিত্ব হলেন জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ; শরণখোলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত কনিষ্ঠ ভাইস-চেয়ারম্যান। শরণখোলা উপজেলার শিক্ষা-কল্যাণেই যিনি ব্যয় করছেন তার জীবনের অধিকাংশ সময়। এমনই জনপ্রিয় জননেতার মুখোমুখি হই বিশেষ সাক্ষাৎকারের জন্য। মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার ‘শরণখোলা উপজেলা বিশেষ সংখ্যা’র প্রচ্ছদ সাক্ষাৎকারের জন্য মুখোমুখি হলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা আন্দোলনের কথা বললেন। শিক্ষা নিয়ে করলেন নানা মন্তব্য। এখানে তার সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো:শিক্ষাতথ্য: আপনি সন্তানের পিতা, অভিভাবক। তাই দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে আপনার ভাবনার কথা বলবেন কী?মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ, ভাইস-চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, শরণখোলা: শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা-ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়বে। আর সেজন্য আমি প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বেশি জোর দেই। কারণ আমি শরণখোলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখানের প্রাথমিক শিক্ষা-ব্যবস্থা একেবারে নাজুক ছিল, দুর্নীতির কারণে ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে আমি চারজন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বদলী করিয়েছি। আমাদের এখানে একসময় নকুল মন্ডল নামে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন, বর্তমানে এডিসি, সেসময় পাঠদানে শিক্ষকদের অবহেলার কারণে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তাও করেছি। কারণ আমাদের মৌলিক বিষয়ের যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়া দৈনন্দিন পথ চলা স্তব্ধ হয়ে যায়। তাই আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার ওপর অবশ্যই জোর দিতে হবে।আমি বলব, সাউথখালি ইউনিয়নের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। কারণ এখানে এমনও বিদ্যালয় আছে যেখানে ছাত্র-ছাত্রী কম কিন্তু শিক্ষক ১০ জন। পক্ষান্তরে অনেক স্কুল আছে যেখানে শিক্ষক ২জন কিন্তু শিক্ষার্থী অনেক। ছাত্র-শিক্ষকের এই অসমতা দূর করার জন্য আমি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আবেদনও করেছি। শিক্ষাতথ্য: নির্বাচনের পর পরই উপজেলা আইন (সংশোধন আকারে) পাশ হয়েছে। উক্ত আইনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে খবরদারী করার কথা বলা হয়েছে; যা উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় মেনে নিতে নারাজ। এ বিষয়ে একজন নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার মতামত বলবেন কী?হাছানুজ্জামান পারভেজ: বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ আইন সংশোধন করার পর পরই সকল সংসদ সদস্যের সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। দলের জন্যও শুভ কিছু হয়নি, বরং দলের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এডিবি কিংবা সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তার বিভক্তি ঘটে। স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ বন্টনের সুযোগ না দেয়ায় প্রকৃতভাবে অর্থের সুষ্ঠু বিতরণ হয়না। বরং সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ নিজ নিজ অনুগত কর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য এলাকার যথাযথ উন্নয়ন হয়না। শিক্ষাতথ্য: স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়ের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?হাছানুজ্জামান পারভেজ: সংসদ সদস্যদের সাথে উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক মোটেই সুখকর নয়। তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে একটি রুল জারি করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা দেওয়ার কারণে ইতোপূর্বে তারা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ওপর খবরদারি করতেন। এখন সেটা করেন না। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ ভালো হয়েছে।শিক্ষাতথ্য: ক্লাশে কি পড়ানো হচ্ছে এবং পরেরদিন কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় পড়ানো হবে, পার্বিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা প্রভৃতি লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ডায়েরীতে লেখার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘শিক্ষার্থী ডায়েরী’র প্রচলন করার জন্য সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে (বাৎসরিক ছুটির তালিকার সাথে)। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে শিক্ষক ডায়েরীর প্রচলন হলেও দেশের অধিকাংশ স্কুল-মাদরাসায় শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন নেই।তাই স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রণালয় নির্দেশিত শিক্ষার্থী ডায়েরীর যথাযথ প্রচলন, বাস্তবায়ন-মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আপনার উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা-অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গ যথা-ইউএনও, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের এবিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আপনি কোন দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন কিনা কিংবা এবিষয়ে আপনার কোন ভূমিকার কথা বলবেন কী?হাছানুজ্জামান পারভেজ: বরাবরই আমি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যদি স্কুল-মাদরাসায় শিক্ষার্থী ডায়েরী ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলাপ করে দেখবো যে বিষয়টি কিভাবে ফলপ্রসূ করা যায়। তবে আমিও মনে করি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রতিটি স্কুল-মাদরাসায় ‘শিক্ষার্থী ডায়েরী’র প্রচলন ও যথাযথ বাস্তবায়ন করা উচিত। শিক্ষাতথ্য: শরণখোলা উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে এ উপজেলাকে ঘিরে আপনার ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনার কথা বলবেন কী?হাছানুজ্জামান পারভেজ: আমি শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ চাই। আর সেজন্য আমাকে প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছি। এবং শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছি। শিশুদের শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।শিক্ষাতথ্য: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাবিষয়ক পত্রিকা “মাসিক শিক্ষাতথ্য” বৃহত্তর আকারে দেশব্যাপী বের হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে দেশের যেকোনো একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে বিশেষ উপজেলা সংখ্যা বের হচ্ছে; পরবর্তী সংখ্যাটি শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হচ্ছে। তাই এ উপজেলার নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্যে আপনার দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক মতামত প্রত্যাশা করছি।হাছানুজ্জামান পারভেজ: আমিও শিক্ষা নিয়ে কাজ করি, এক্ষেত্রে বেশ ধকল পোহাতে হয়। তবে আপনারাও শিক্ষা নিয়ে যে কাজ করছেন নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ কাজ। বিশেষ করে একটি উপজেলার শিক্ষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরে যে বিশাল ‘উপজেলা সংখ্যা’ বের করছেন সেটি খুবই সুন্দর পদক্ষেপ। এর ফলে একটি উপজেলার শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের সার্বিক চিত্র ফুটে উঠবে। দেশবাসী একটি উপজেলা সম্পর্কে, উপজেলার শিক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে। এধরনের উদ্যোগের সাথে শিক্ষাতথ্য পরিবারের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ভাইস-চেয়ারম্যানের সংক্ষিপ্ত জীবনীজনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জনাব আব্দুল হক হাওলাদার, বন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা মিসেস পারভীন আক্তার একজন সুগৃহিণী। তারা তিন ভাই; অপর দুই ভাই হলেন তরিকুল ইসলাম ও পলাশ মাহমুদ।জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ এর পিতা ফরেস্ট অফিসার ছিলেন বলে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় খুলনায়। তবে তিনি শরণখোলাস্থ তাফালবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। অতঃপর নারায়ণগঞ্জের তোলারাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এসএইচসি এবং ১৯৯৮ সালে স্নাতক পাস করেন।স্কুল জীবনের প্রথমেই তিনি ছাত্র-রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক জীবনে জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ ১৯৯০ সালে স্কুল কেবিনেটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৪ সালে সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির মতো গুরু দায়িত্ব পালন করেন।রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ ২০০১ সালে সাইপ্রাস গমন করেন। সেখানে ৬বছর রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ‘ওয়ান ইলেভেন’-এ দেশে ফিরে আসেন। তিনি দেশে ফিরেই সংসদ নির্বাচনে ডা. মোজাম্মেল হকের জন্য কাজ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভে সমর্থ হন। জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৩৭০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’-এর মাধ্যমে তার এলাকার জনকল্যাণেও কাজ করে যাচ্ছেন।পারিবারিক জীবনে জনাব মো. হাছানুজ্জামান পারভেজ এক কন্যা সন্তানের জনক। মেয়ের নাম মিতা হাসান। তার সহধর্মিণী মিসেস মাহফুজা ইয়াসমিন মুন্নী একজন সুগৃহিণী।
|