
| Headline : |
|
শিক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণসহ জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উভয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন হওয়া উচিত
-কে এম মামুন উজ্জামান
প্রতিষ্ঠাতা
শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট
এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, যশোর
(উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত)
|
|
তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাই সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। আর মানুষ হিসেবে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় সফলও হন তিনি। তাঁর কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন ‘জনপ্রশাসন পুরস্কার-২০১৭’ লাভের মাধ্যমে। প্রিয় পাঠক, মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার উদ্যোগে প্রকাশিতব্য ‘শরণখোলা উপজেলা বিশেষ সংখ্যা’র কাজ করতে শরণখোলায় গিয়ে এমনই এক মহৎ ব্যক্তিত্বের সন্ধান পাই যাঁকে নাকি ঔ এলাকার হিন্দু মানুষেরা দেবতাতুল্য ভেবে পূজা করে, অন্যরা দেখায় পরম ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আর সেই পূজনীয় ব্যক্তিত্ব হলেন জনাব কে এম মামুন উজ্জামান; বর্তমানে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম হিসেবে দায়িত্বরত)। অতি সম্প্রতি তিনি উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। তিনি ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৫ জুন পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লক্ষ্য করেন যে, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদের নাম শরণখোলা। সেখানকার অধিকাংশ মানুষের পেশা কৃষি, জেলে ও দিনমজুরের কাজ। শিক্ষা ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে। আধুনিক ও মানসম্মত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় উক্ত উপজেলার সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাগণ তাদের পরিবার-পরিজন শহরে রেখে সন্তানদের লেখাপড়া শেখান। এমনকি এলাকার বিত্তশালীরাও তাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করার জন্য শহরমুখী হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় জনাব কে এম মামুন উজ্জামান শরণখোলার কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’ নামের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাছাড়াও জনাব কে এম মামুন উজ্জামান চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘সাঁতার শিখুন, জীবনের জন্য সাঁতার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি অনুদান ও এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করেন। জনাব কে এম মামুন উজ্জামান এমন জনসেবামূলক কর্মকান্ডে শিক্ষাতথ্য পরিবার মুগ্ধ হয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জনাব কে এম মামুন উজ্জামান-এর বিশেষ সাক্ষাৎকার শরণখোলা উপজেলা সংখ্যায় মুদ্রণের জন্য গ্রহণ করা হয়। এখানে তাঁর সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো। শিক্ষাতথ্য: আমরা জানি, শরণখোলা উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সেখানে স্ব-উদ্যোগে একটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। কিন্তু আপনার স্থায়ী বাড়ী শরণখোলাতে নয়। সেখানে স্থায়ী নিবাস না হওয়া সত্বেও একজন সরকারি অফিসার হিসেবে কোন অনুপ্রেরণায় এবং কী লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন? কে এম মামুন উজ্জামান: সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমরা যখন দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় বিভিন্ন পদে থেকে দায়িত্ব পালন করি তখন রুটিন মাফিক সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চাহিদাভিত্তিক ঐ জনপদের মাটি ও মানুষের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ ভিতর থেকে প্রতিনিয়ত অনুভব করে থাকি। ২০১২ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি যখন শরণখোলায় যোগদান করি তখন বুঝতে পারি সিডর-আইলা বিধ্বস্ত এই উপজেলায় ছাত্র-ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ ও বিস্তারের জন্য ভাল কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। কারণ শরণখোলা উপজেলাটি বাগেরহাট জেলার সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত একটি পিছিয়ে পড়া জনপদ। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণ পানির অনুপ্রবেশ এ অঞ্চলের মানুষের জীবনকে করে তুলছে বিপর্যস্ত ও বিপন্ন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মত মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিনিয়ত মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। সকল শিশুকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এ উপজেলায় আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এখনও অনেক পথ-পরিক্রমার প্রয়োজন। এরই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা তদুর্ধ শ্রেণীতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী, অলাভজনক ও অরাজনৈতিকভাবে এখানকার সম্ভবনাময় ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগ্য করে গড়ে তোলার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠা করা হয় শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট। শিক্ষাতথ্য: আপনার প্রতিষ্ঠিত ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিাটউট’ একটি ভালো প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। বলা যায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ঈর্ষণীয় ভালো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া বলবেন কী?কে এম মামুন উজ্জামান: শিক্ষার পাঁচটি মূল উপাদান হচ্ছেঃ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাক্রম, শিক্ষালয়, পরিবার-পরিবেশ। আমরা সর্বদায় চেষ্টা করে যাচ্ছি যোগ্য শিক্ষক বাছাই করে নিয়োগ প্রদান করে তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো বেশি দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা। এছাড়া স্কুল ম্যানেজমেন্টের সাথে যাঁরা জড়িত আছেন তাদের নিয়মিত তদারকি ও আতœরিকতার কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ফলাফল অর্জনে ঈর্ষণীয় সুনাম কুড়াতে সক্ষম হয়েছে।শিক্ষাতথ্য: শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থী ডায়েরী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উপকরণ; যা ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিাটউট’ এ নিয়মিতভাবে প্রচলন ও যথাযথভাবে মনিটরিং করা হয়। আবার ২০১২ সাল থেকে বিদ্যালয় ও মাদরাসায় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার্থী ডায়েরী প্রচলন করার জন্য সরকারিভাবে বাৎসরিক ছুটির তালিকার সাথে প্রতি বছরই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা পালন করেনা। এমনকি শরণখোলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন নেই।তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথ মনিটরিংয়ের বিষয়ে আপনার অভিমত বলবেন কী?কে এম মামুন উজ্জামান: শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য একটি অংশ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উভয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন হওয়া উচিত। শিক্ষাতথ্য: পরিবার ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আজ বড় অভাব; যার ফলশ্রুতিতে দেশে আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের রাজত্ব চলছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় এবং ছাত্র-শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে একজন অভিভাবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনার পরামর্শের কথা বলবেন কি?কে এম মামুন উজ্জামান: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়রোধে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিকুলাম একটিভিটিজ এর পাশাপাশি নানামুখী কো-কারিকুলাম একটিভিটিজ সংযোজন করা দরকার। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করে ব্যস্ত রাখা, যাতে বাজে চিন্তা করার সুযোগ তারা না পায়। নৈতিক ও প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ হতে ফিরিয়ে আনতে পারে। আমি মনে করি, মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশে নৈতিক ও ধর্মের মূল মর্ম কথাগুলো বেশি বেশি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চর্চা হওয়া প্রয়োজন যাতে উভয়ই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ থেকে ফিরে থাকতে পারে।শিক্ষাতথ্য: অভিযোগ রয়েছে, দেশের অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষকের যে পরিমাণ পদ রয়েছে তা দীর্ঘদিন থেকে শূন্য পড়ে থাকে, যার ফলে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে ঠিকমত পাঠদান করানো সম্ভব হয় না, শিক্ষার্থীরাও পরিপূর্ণ শিক্ষা পায়না। তাই প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ?কে এম মামুন উজ্জামান: প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কক্ষে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর সন্তোষজনক অনুপাত থাকা বাঞ্চনীয়। এর ব্যতয় ঘটলে শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ ও মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধ্যন্য দিয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণসহ জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। শিক্ষাতথ্য: আপনি কী মনে করেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও-এর নেতৃত্বে একটি করে ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিাটউট’ এর মতো ভালো শিক্ষাঙ্গন গড়ে তো উচিত?কে এম মামুন উজ্জামান: হ্যাঁ, আমি নিশ্চয়ই মনে করি প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও’র নেতৃত্বে শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের মতো একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত।শিক্ষাতথ্য: আমি জেনেছি যে, শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিনই ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিাটউট’ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন, তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?কে এম মামুন উজ্জামান: শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট-কে ঘিরে আমার স্বপ্ন সহ¯্রাব্দের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখানকার প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে যোগ্য করে গড়ে তোলার মাধ্যমে একদিন এই প্রতিষ্ঠানকে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করা।শিক্ষাতথ্য: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাবিষয়ক জাতীয় পত্রিকা মাসিক শিক্ষাতথ্য বৃহত্তর আকারে দেশব্যাপী বের হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে দেশের যেকোনো একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে বিশেষ উপজেলা সংখ্যা বের হচ্ছে; পরবর্তী সংখ্যাটি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হচ্ছে। তাই একজন শিক্ষা-উদ্যোক্তা, পথপ্রদর্শক অভিভাবক ও উক্ত উপজেলার সাবেক ইউএনও হিসেবে এ ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্যে আপনার দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক মতামত প্রত্যাশা করছি।কে এম মামুন উজ্জামান: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ‘‘মাসিক শিক্ষাতথ্য’’ নামক ম্যাগাজিনটি বর্তমানে যে কোন একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে যে বিশেষ উপজেলার সংখ্যা বের করে থাকে সেটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী মহতী উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে শিক্ষা বিষয়ক খুঁটিনাটি নানান বিষয়ে জানার মাধ্যমে মানুষের শিক্ষার প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি পাবে।উপসচিব -এর সংক্ষিপ্ত জীবনীজনাব কে এম মামুন উজ্জামান ১৯৭৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হরমুজ আহম্মদ খান (বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন) এবং মাতা মোসাম্মৎ শাহিদা খাতুন। তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে সকলের বড়।জনাব কে এম মামুন উজ্জামান-এর নড়াইলের মাইজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতে-খড়ি হয়। অতঃপর তিনি মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকাস্থ নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (এজি) এবং এমএস ইন ক্রপ বোটানী সম্পন্ন করেন।জনাব কে এম মামুন উজ্জামান কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকাস্থ মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। তিনি ২৪তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে ২০০৫ সালে যোগদান করেন। তার উল্লেখযোগ্য কর্মস্থলের মধ্যে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৫ জুন পর্যন্ত, চুয়াডাঙ্গা সদরে ২০১৪ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং যশোরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্ম ও ব্যক্তি জীবনের সততা, সমাজের দায়বদ্ধতা ও সচেতন ব্যক্তির দায়িত্ববোধ থেকে যে কাজ করে আসছেন তার স্বীকৃতি হিসেবে জনাব কে এম মামুন উজ্জামান ২০১৭ সালে ‘জনপ্রশাসন পদক’ লাভ করেন।পারিবারিক জীবনে জনাব কে এম মামুন উজ্জামান দুই সন্তানের জনক। তার সহধর্মিণী মিসেস ফাহিমা খাতুন।
|