
| Headline : |
|
শরণখোলাবাসীর প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট
স্টুডেন্ট ডায়েরীর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা প্রতিটি স্কুল-মাদ্রাসার অনুসরণ করা উচিত
-মো. উসমান গনি, অধ্যক্ষ, শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, শরণখোলা, বাগেরহাট
|
|
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা পিছিয়ে পড়া একটি জনপদের নাম শরণখোলা। এ এলাকার জন্য ২০১২ সালে শরণখোলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন ইউএনও কে এম মামুন উজ্জামান এলাকার কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’ নামের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সকলের সহযোগিতায় হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এখন ইংরেজিতে কথা বলা শিখেছে। এভাবে সবার সহযোগিতা থাকলে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে শরণখেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। সার্থক হবে সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্খা।শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের বৈশিষ্ট্যসমূহ: প্রতি বিষয়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক সিটি এবং এমটি পরীক্ষা। নিয়মিত হাতের লেখা প্রশিক্ষণ। ডিবেটিং ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও স্পোকেন ইংলিশ প্রশিক্ষণ। ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার। প্রতি বৃহস্পতিবার অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচ প্রশিক্ষণ। শিক্ষার পাশাপাশি দৈহিক ও মানসিক সুষম বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নানা রকম সহশিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। যেমন- সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা (বাংলা ও ইংরেজি), চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পরিবেশ শিক্ষা, খেলাধুলা, প্যারেড ও পিটি ইত্যাদি। সুশৃঙ্খল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, নিজস্ব ক্যাম্পাস ও মনোরম পরিবেশ। কাব স্কাউটস ও স্কাউটস দলের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিযোগিতা ও সেবামূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। প্রতিমাসে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অগ্রগতি জানানোর জন্য অভিভাবক সমাবেশ করা হয়। প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা আছে। সম্ভাবনাময় প্রত্যেকটি শিশুর ভিতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা। গার্ডিয়ানের জন্য সুসজ্জিত গার্ডিয়ান কর্ণারের ব্যবস্থা রয়েছে।এখানে রয়েছে একটি সুদক্ষ পরিচালনা কমিটি। এ কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট। সভাপতি: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শরণখোলা, বাগেরহাট। প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সদস্য: জনাব কেএম মামুন উজ্জামান। পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ হলেন: জনাব লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শরণখোলা, সভাপতি। জনাব কে এম মামুন উজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা, আজীবন সদস্য। সদস্য- উপজেলা কৃষি অফিসার, শরণখোলা। উপজেলা মৎস্য অফিসার, শরণখোলা। অফিসার-ইনচার্জ, শরণখোলা থানা। উপজেলা প্রকৌশলী, শরণখোলা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, শরণখোলা। উপজেলা শিক্ষা অফিসার, শরণখোলা। চেয়ারম্যান, ধানসাগর ইউপি, শরণখোলা। চেয়ারম্যান, খোন্তাকাটা ইউপি, শরণখোলা, বাগেরহাট। চেয়ারম্যান, রায়েন্দা ইউপি. শরণখোলা, বাগেরহাট। চেয়ারম্যান, সাউথখালী ইউপি, শরণখোলা, বাগেরহাট। কমান্ডার, উপজেলা ইউনিট কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শরণখোলা। আজীবন সদস্য-মতিয়ার রহমান খান। মো. সাইফুল ইসলাম ইসলাম খোকন। সুভাষ চন্দ্র দাস (বাবুল)। মো. ইসমাইল হোসেন লিটন, সভাপতি, শরণখোলা প্রেসক্লাব। মো. আমিনুল ইসলাম সাগর। শিক্ষাবিদ সদস্য-আঃ সাত্তার আকন। বিদ্যোৎসাহী সদস্য- আঃ রশিদ আকন। আঃ অদুদ আকন, শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট। অভিভাবক সদস্য-মো. মনিরুল ইসলাম বাবুল। শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য- মোঃ হেদায়েতুন নবী ও সোনালী রাণী। সদস্য সচিব-অধ্যক্ষ, শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট।কর্মরত শিক্ষকদের নামের তালিকা: মো. উসমান গনি, অধ্যক্ষ। সুব্রত কুন্ডু, সিনিয়র শিক্ষক। বিধুভূষণ রায়, সিনিয়র শিক্ষক। আঃ বারেক খান, সিনিয়র শিক্ষক। মো. হেদায়েতুন নবী, সহকারী শিক্ষক। সোনালী রাণী, সহকারী শিক্ষক। হেলেন জাহান, সহকারী শিক্ষক। তানিয়া আকতার, সহকারী শিক্ষক। এমাদুল হক, সহকারী শিক্ষক। উম্মে হানি সুমি, সহকারী শিক্ষক। কামরুন নাহার সীমা, সহকারী শিক্ষক। সোনিয়া আকতার, সহকারী শিক্ষক। সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক। কামরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক। মৌসুমী আকতার, সহকারী শিক্ষক। সাহিদা শারমিন, সহকারী শিক্ষক। মুহিবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক। মোমেনা আক্তার, সহকারী শিক্ষক। জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী শিক্ষক।কর্মরত কর্মচারীদের নামের তালিকা: মো. হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী। মো. আল আমিন, নৈশ প্রহরী। শিউলী রানী, আয়া। মুক্তা রানী কর্মকার, সহায়ক।এখানে শিক্ষাতথ্য পত্রিকার শরণখোলা উপজেলা সংখ্যায় মুদ্রণের জন্য শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জনাব মো. উসমান গনি’র বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। এখানে অধ্যক্ষ মহোদয়ের সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো।শিক্ষাতথ্য: শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট-এর প্রধান হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা-ব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্পর্কে আপনার অভিমত বলবেন কী? মো. উসমান গনি, অধ্যক্ষ: শরণখোলা উপজেলার মধ্যে ২০১৭সহ গত ৩ বছর আইডিয়াল ইনস্টিটিউট সর্বোচ্চ নম্বর সহ পিএসসি-তে প্রথম হয়েছে। আর গতবার ১৯ জন পরীক্ষা দিয়েছে, তার মধ্যে ১০ জন এ প্লাস পেয়েছে বাকীরা এ গ্রেড পেয়েছে। এবারে আমাদের ২০ জন পরীক্ষার্থী ছিল, এর মধ্যে উপজেলায় প্রথম স্থান সহ ৯ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে। আমাদের জেএসসি ও পিএসসি-তেও কোন ফেল নেই।আর শিক্ষার গুণগত মান ও পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে যেটা করি তা হলো- বছরের শুরুতেই শিক্ষকগণ সকল বিষয়ের পাঠপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। তিন সেমিস্টারে বিভক্ত করে শিক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হয়। এতে বছরের কোন পরীক্ষায় কতটুকু পড়তে হবে সমগ্র বই-এর উপর শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ধারণা জন্মে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা করে পরবর্তী দিনের ক্লাসে আলোচনা করে তা রেকর্ড রাখা। এভাবে দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা (খবংংড়হ চষধহ) ও দৈনিক পাঠ রেকর্ড (খবংংড়হ জবপড়ৎফ) রেজিষ্টার মেইন্টেইন করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং অধ্যক্ষ মহোদয় শিক্ষকদের খবংংড়হ চষধহ ্ খবংংড়হ জবপড়ৎফ রেজিষ্টার দৈনিক তদারকি ও স্বাক্ষর করে থাকেন। এতে ক্লাসে ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।আমাদের স্টুডেন্টদের জন্য নিজেরাই ডায়েরী প্রকাশ করে থাকি। আমরা শিক্ষার্থী ডায়েরী অনুযায়ী পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। এই ডায়েরীর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুতি ছাড়া, শিক্ষা প্লান ছাড়া আমরা কোন ক্লাস নেই না আমরা সেটা চেষ্টা করি ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো পাঠদানের ব্যবস্থা করার। সেজন্য আমাদের ক্লাসে শিক্ষকদের বসার জন্য কোন চেয়ার নেই। আমাদের শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে ক্লাস নেন এবং সকলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের প্রধান কাজই থাকে সার্বক্ষণিক ছাত্রাদের প্রতি খেয়াল করা, ক্লাসে পাঠদান করা এবং সেটা বুঝিয়ে মুখস্ত করিয়ে দেওয়া। পড়ানোর পরে লেখানো হয়, যেকারণে আমরা মনে করি শিক্ষার মানটা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছি। শিক্ষাতথ্য: আমরা জানি, ২০১২ সাল থেকে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য ছুটির তালিকার সাথে স্টুডেন্ট ডায়েরী ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় ৯৯% স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষকগণ এ সম্পর্কে জানেন না। অথচ আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য স্টুডেন্ট ডায়েরী ব্যবহার করেন, কেন?মো. উসমান গনি: প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন হচ্ছে শুধু পঞ্চম শ্রেণি পাশ করা নয়, এসএসসি পাশ করা নয়, এইচএসসি পাশ করা নয়। এখানকার কমিটির সদস্যদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা রয়েছে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, ২০১৭-১০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষে শরণখোলা উপজেলায় লেখাপড়া করে কোন ছাত্র দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়নি। যেহেতু এখানকার কোন ছাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি, আমরা চেষ্টা করছি এখান থেকে এমন ছাত্র তৈরী করতে যে ছাত্রগুলো ভাল কোন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার চান্স পায়। তারা যেন ভালো শিক্ষা অর্জন করতে পারে এবং দেশের সেবক হতে পারে। এটি আমাদের কমিটির সদস্য প্রত্যেকের স্বপ্ন। আর ভাল ছাত্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রদের ডায়েরী ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ অনেক অভিভাবক স্কুলে আসতে পারেন না অথচ একজন ছাত্রের স্কুলে কি পড়ানো হলো তা ডায়েরী থেকে খোঁজ নিতে পারেন, সে অনুসারে বাসায় দিক-নির্দেশনাও দিতে পারেন। সে দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার্থীরা যদি ডায়েরী ব্যবহার করে তাহলে অভিভাবকগণ দেখতে পায়, অভিভাবকের মতামত ও স্বাক্ষরের একটি জায়গা আছে। তারা সন্তান সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের নজরে আনতে মতামতও দিতে পারেন। অভিভাবকরা ডায়েরী দেখছেন কিনা, তাদের মতামত দিয়েছেন কি না স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা তা বুঝতে পারি। আমরা ডায়েরী দেখলে বুঝতে পারি কোন ছাত্র কোন দিন ক্লাসে উপস্থিত ছিল না। উপস্থিতির ব্যাপারটাও ডায়েরী দেখে লক্ষ্য করা যায় । তারপর শিক্ষকরা যেদিন যেটা পড়ান তা লিখে দেন। আমরা আমাদের কথা, কিছু বৈশিষ্ট্য, আমরা কিভাবে চালাতে চাই প্রভৃতি তথ্য ডায়েরীতে দেয়া আছে। এখানে প্রতিষ্ঠাতা স্যারের বক্তব্য আছে, সভাপতি মহোদয়ের বক্তব্য আছে এবং প্রিন্সিপালের বক্তব্য আছে। এসব দেখলে মানুষ নি:সন্দেহে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারে এবং উৎসাহিত হয়।শিক্ষাতথ্য: তাহলে আপনি কি মনে করেন যে স্টুডেন্ট ডায়েরীর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা প্রতিটি স্কুল-মাদরাসার অনুসরণ করা উচিত?মো. উসমান গনি: কোন সন্দেহ নেই, অবশ্যই স্টুডেন্ট ডায়েরীর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা প্রতিটি স্কুল-মাদরাসার অনুসরণ করা উচিত। বরং শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা বা মান বৃদ্ধির জন্য স্টুডেন্ট ডায়েরীর কোন বিকল্প নেই। শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট প্রশাসন পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। যখন যে ইউএনও থাকবেন ইনস্টিটিইটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি হচ্ছেন সভাপতি। আমাদের ডায়েরীতে সভাপতির বাণীও আছে। আমাদের সভাপতি শরণখোলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। ফলে শিক্ষার গুণগত মানটাও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।শিক্ষাতথ্য: শিক্ষার সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের আনন্দের বিষয়টাকে আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করেন ? আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সহায়ক অন্যান্য কার্যক্রম (কো-কারিকুলাম একটিভিটিজ) সম্পর্কে বলবেন কী ?মো. উসমান গনি: শুধু শিক্ষা নয়, কো-কারিকুলাম একটিভিটিজে আমরা কিন্তু সমান গতিতে এগিয়ে আছি। মহান বিজয় দিবস ২০১৭ তে উপজেলার মধ্যে ডিসপ্লে ও কুচকাওয়াজে আইডিয়াল ইনস্টিউিটট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারপর নৃত্যের কথা যদি বলি, আমাদের এখানে প্রতি বৃহস্পতিবারে নৃত্যের শিক্ষক আসেন, নৃত্য শেখান। আমরা গান শেখাই, নাচ শেখাই। উপজেলা কৃষি অফিস গত বছর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সেখানে অনেকগুলো স্কুল অংশগ্রহণ করেছিল। ৯টি পুরস্কার দিয়েছে এবং ৯টিই আইডিয়াল ইনস্টিটিউট পেয়েছে। কলেজে প্রতিযোগিতায় ১৪টি স্কুল অংশগ্রহণ করলেও আইডিয়াল স্কুল ৮টি পুরস্কার পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে উপজেলার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে ক-গ্রুপে আমাদের ৪জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং ১ম, ২য়, ৩য় হয় আমাদের শিক্ষার্থীরাই। আবার খ গ্রুপে আমরা একজনকে পাঠাই এবং সেই ১জনই প্রথম হয়েছে। আমরা মনে করি লেখাপড়া ভাল করতে গেলে তার সাথে কো-কারিকুলাম একটিভিটিজেও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখা দরকার।শিক্ষাতথ্য: অধ্যক্ষ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী?মো. উসমান গনি: ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’-কে ঘিরে প্রথম স্বপ্ন হচ্ছে যে, যারা এখানে লেখাপড়া করবে তারা হবে সুশৃঙ্খল ছাত্র। বাবা মায়ের কাছে হবে চোখ জুড়ানো সন্তান এবং দেশের কাছে হবে তারা দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং সেবক। শিক্ষাতথ্য: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাবিষয়ক জাতীয় পত্রিকা “মাসিক শিক্ষাতথ্য” বৃহত্তর আকারে সারা দেশব্যাপী বের হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে দেশের যেকোনো একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে ‘বিশেষ উপজেলা সংখ্যা’ বের হচ্ছে; পরবর্তী সংখ্যাটি শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হচ্ছে। তাই এধরনের উদ্যোগ গ্রহণকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন? তাছাড়া বিদ্যালয়ের একজন প্রধান হিসেবে এ ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্যে আপনার দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক মতামতও প্রত্যাশা করছি। মো. উসমান গনি: উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য শিক্ষাতথ্য পরিবারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই এবং যারা এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত আছেন তাদের কাছে দেশও ঋণী। কারণ শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা যে কাজ করে যাচ্ছে, সেই সাথে উক্ত এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বাস্তব সমস্যাগুলো আপনারা তুলে ধরে সমাধানের পথ বাতলে দিতে পারেন। যদি আপনারা অঞ্চলভিত্তিক যে সমস্যা আছে তা বের করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের চেষ্টা করেন তাহলে নি:সন্দেহে তা ভাল হবে। সেসব সমস্যার সঠিক সমাধানও সম্ভব।আমি দেখেছি, অনেক সময় মফস্বল এলাকার সমস্যাগুলো আটকে থাকে, আমি চাই মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার তথ্যগুলো শহরাঞ্চল এলাকার সীমানা পেরিয়ে গোটা মফস্বল এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছাক, তাহলে শিক্ষার আলো আরো বেশি আলোকিত হবে এবং গুণগত শিক্ষার মান উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে শরণখোলা একটি পিছিয়ে পড়া এলাকা। এ এলাকাকে ঘিরে মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকার লেখনী শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।অধ্যক্ষের সংক্ষিপ্ত জীবনীজনাব মো. উসমান গনি ১৯৮০ সালে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের খলসী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. মোমতাজ উদ্দিন এবং মাতা সুফিয়া বেগম। তিনি ছয় ভাই তিন বোনের মধ্যে ৩য়। জনাব মো. উসমান গনি এলাকার স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তারপর গোপালপুর ইছাপুর আমিনীয় দাখিল মাদরাসা থেকে ১৯৯৪ সালে দাখিল পাশ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে শার্শা উপজেলাধীন ধান্যখোলা ডিএস সিনিয়র মাদরাসার থেকে আলিম পাশ করেন। কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স এবং লোক প্রশাসনের অধীনে এমডিএস করেন।জনাব মো. উসমান গনি কর্মজীবনের শুরুতে ২০০৭ সালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এনজিওতে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি ইসলামী ব্যাংকও গাজীপুরের ব্রাইট স্কলারস ক্যাডেট মাদরাসায় কাজ করেন। তিনি ২০১৪সালে রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করেন।সেখান থেকে তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’-এ অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
|