
| Headline : |
|
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকগণ নিজ উদ্যোগে ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এ ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথ মনিটরিং করা প্রয়োজন
-মো: কামরুজ্জামান
জেলা শিক্ষা অফিসার
বাগেরহাট
|
|
তাঁর দায়িত্ব সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি ভীষণ ব্যস্ত ও কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব। আবার অন্যের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিও তিনি যথেষ্ট আন্তরিক। তাইতো তাঁর নিকট থেকে সহজেই একটি তথ্যবহুল সাক্ষাৎকার আমরা পেয়ে গেলাম। ধন্যবাদ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব জনাব মো: কামরুজ্জামান।আমরা জানি, প্রত্যেক মানুষই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশ ব্যস্ত। আর ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে অনেক ব্যক্তিই সমাজের দায়বদ্ধতার বিষয়টি এড়িয়ে যান, যা মোটেও সমীচীন নয়। জনাব মো: কামরুজ্জামান এর মতো সরকারি কর্মকর্তাদের ভীষণ ব্যস্ততা থাকবেই। আর কাজের ব্যস্ত মানুষকে কেউ মন্দ বলেনা; বরং তাকে ভালো মানুষই বলা হয়। এমন ভালো মানুষের কর্মের ফল ভালোই হয়। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন; অল্প সময়ে। তিনি তাঁর এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন, বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নানা প্রসঙ্গ। প্রিয় পাঠক, এতক্ষণ যাঁর সম্পর্কে কথাগুলো বলা হলো তিনি হলেন বাগেরহাট জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো: কামরুজ্জামান। এখানে বলা প্রয়োজন যে, শিক্ষাবিষয়ক জাতীয় ম্যাগাজিনধর্মী পত্রিকা মাসিক শিক্ষাতথ্য-এর উদ্যোগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার ‘শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য’ শীর্ষক “বিশেষ উপজেলা সংখ্যা” বের হচ্ছে। উক্ত সংখ্যায় সংযোজিত হচ্ছে শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন তত্ব ও তথ্য; বিশেষ করে শরণখোলা উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার নাম, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য। আরো থাকছে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সচিত্র প্রতিবেদন, শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংবাদ-প্রতিবেদন, অর্থ-বাণিজ্য প্রতিবেদন এবং স্থানীয় মন্ত্রী-সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, জেলা-উপজেলা-পৌরসভা ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনিক সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের শিক্ষাবিষয়ক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রভৃতি। আর তারই অংশ হিসেবে আমরা বাগেরহাট জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো: কামরুজ্জামান-এর মুখোমুখি হই। তিনি আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তুলে ধরেছেন বাগেরহাট জেলার শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য। তাছাড়াও তিনি বাগেরহাট জেলার শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়ে ভূমিকা পালনে অগ্রপথিকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তাঁর দেওয়া মূল্যবান সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ শিক্ষাতথ্য পত্রিকার অগণিত পাঠক এবং বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার শিক্ষাপ্রেমীদের জন্য তুলে ধরা হলো:শিক্ষাতথ্য: আপনি এ জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন; শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব পালনকারী একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনার অনুভূতির কথা বলবেন কী? অর্থাৎ শিক্ষা অফিসার হিসেবে এমন গুরুদায়িত্ব¡ পালন করতে আপনার কেমন লাগছে?মো: কামরুজ্জামান, জেলা শিক্ষা অফিসার, বাগেরহাট: আমি বাগেরহাটের জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই যোগদান করেছি। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে ভালই লাগে।শিক্ষাতথ্য: একটি জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কর্মপরিধির বিস্তৃতি কেমন?মো: কামরুজ্জামান: জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে আমাকে বেশকিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন, (ক) শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন ভাতার প্রস্তাব প্রেরণ (খ) বিএড স্কেল (গ) সহকারি অধ্যাপক স্কেল (ঘ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত প্রভৃতি করতে হয়। শিক্ষাতথ্য: আপনার এ জেলার সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা তথা জেলার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্পর্কে দায়িত্ব পালনকালীন আপনার অভিজ্ঞতা থেকে বলবেন কী?মো: কামরুজ্জামান: সমস্যা: বাগেরহাট সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা Coastal Area । এখানে পানি ও মাটিতে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশী। ফলে বিদ্যালয়ের ভবনগুলোর স্থায়িত্ব অনেক কম হয়। প্রাচীনকাল থেকে বাগেরহাট এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদির সাথে লড়াই করে টিকে আছে। সাম্প্রতিককালের সিডর (২০০৭), আইলা (২০০৯) বাগেরহাট জেলায় হানা দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। শরণখোলা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি। এখানে সাউথখালি নামের একটি ইউনিয়ন আছে। সাউথখালি নামটি বৃটিশ আমলে ইংরেজদের দেওয়া। এই ইউনিয়ন থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হলেই প্রথমে সুন্দরবন, পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগর ও সর্ব দক্ষিণে দক্ষিণ মেরুর অবস্থান। তাই অবস্থানগত ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনা করে এ উপজেলার শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা সকলের পক্ষে বেশ কঠিন বৈকি। তবে আমি বাগেরহাট জেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের বিষয়ে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। আরেকটি বিষয় আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে, সেটি হলো-শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য ইদানিং শিক্ষকগণ নিজ উদ্যোগে শিক্ষক বাতায়ন (www.teachers.gov.bd)-এ ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রত্যেকে বেশ ভালোও করছেন। সেখানে শিক্ষকগণের মধ্যে অনলাইন ভিত্তিক একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি এরকম যে, সপ্তাহব্যাপী আপলোডকৃত কন্টেন্ট গুলোর মধ্যে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা নির্ধারিত হয়। সেরা হওয়ার জন্য সবাই গুণগত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট শিক্ষক বাতায়নে আপলোড দিয়ে থাকেন। এভাবেই শিক্ষকগণ গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা (SDG-4: Sustainable Development Goal-4) অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। শিক্ষাতথ্য: শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য ক্লাশে কি পড়ানো হচ্ছে এবং পরেরদিন কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় পড়ানো হবে, পার্বিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা প্রভৃতি লিখিতভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ডায়েরীতে লেখার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক “শিক্ষার্থী ডায়েরী” প্রচলন করার জন্য সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে (বাৎসরিক ছুটির তালিকার সাথে)।তাই শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থী ডায়েরীর প্রচলন ও যথাযথ মনিটরিংয়ের বিষয়ে একটি জেলার প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে আপনার জেলার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করছি।মো: কামরুজ্জামান: শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠদানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য শিক্ষার্থী ডায়েরী একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কারণ এ ডায়েরী ব্যবহারের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান প্রক্রিয়া লিখিতভাবে সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। একজন ছাত্র-ছাত্রী কোন বিষয় পড়ছে, পরেরদিন কোন বিষয় পড়ানো হবে তা ডায়েরীতে থাকলে ভালোই হয়। দুই-তিন মাস পরেও পাঠদানের বিষয়ে অবগত হওয়া যায়। তাই আমি মনে করি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ডায়েরী প্রচলন ও যথাযথ মনিটরিং করা প্রয়োজন।শিক্ষাতথ্য: এ জেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকেরা ভালো করেন তাদের অনুপ্রেরণা দিতে কী ধরনের উৎসাহমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেন? কিংবা যারা ফলাফল ভালো করছে না তাদের উন্নয়নের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?মো: কামরুজ্জামান: আমরা সর্বদা ভাল কাজ ফলাফলকে উৎসাহিত করে থাকি। ধন্যবাদ বা অভিনন্দনপত্র দিয়ে তাদেরকে স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে থাকি। যেমন: (১) বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার বিএসসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জেলার সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে প্রশংসা সূচক অভিনন্দনপত্র প্রদান করেছি। (২) ২০১৭ সালে বাগেরহাট বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজ মৌসুমী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে সারাদেশের ভিতর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদেরকে আমি প্রশংসাসূচক অভিনন্দন পত্র দিয়েছি।শিক্ষাতথ্য:অনেক সময়ই অভিযোগ পাওয়া যায় যে, শিক্ষকেরা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত কাজ কিংবা কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনির সাথে জড়িত থাকেন-এ বিষয়ে আপনার মতামত বলবেন কী ?মো: কামরুজ্জামান: প্রতিষ্ঠান চলাকালীন কোন শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনির সাথে জড়িত থাকতে পারবে না। এ বিষয়ে জেল প্রশাসক মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। কোচিং বিরোধী একটি সমাবেশ বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলার সকল প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল। জেলা প্রশাসক মহোদয় দুই হাত তুলে সমস্ত শিক্ষকদের কোচিং বিরোধী শপথ পড়ান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান চলাকালীন কোচিং বাণিজ্যেরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চল, খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর টিএম জাকির হোসেন বাগেরহাট জেলায় কোচিং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোচিং বাণিজ্যেরত বিভিন্ন শিক্ষককে সতর্ক করেছেন ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান রেখেছেন। শিক্ষাতথ্য: পরিবার ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আজ বড় অভাব; যার ফলশ্রুতিতে দেশে আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের রাজত্ব চলছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় এবং ছাত্র-শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে জেলার একজন শিক্ষা কর্তাব্যক্তি তথা অভিভাবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনার পরামর্শের কথা বলবেন কি?মো: কামরুজ্জামান: আসলে, আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পূর্বের তুলনায় ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। পিতামাতারা আগে নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন। পাড়াপড়শি মুরব্বীরাও নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন ও শাসন করতেন। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের উপর মুরব্বীদের প্রভাব ছিল। তরুণ-তরুণীরা মুরব্বিদের সম্মান করত এবং তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা ছিল। অভিভাবকগণ আজকাল জীবন-জীবিকা অর্জন, আর্থিকভাবে উন্নতির জন্য তারা নিজের সন্তানদের সময় দিতে পারেন না অন্যের সন্তান তো দূরে থাক। ফলে পরিবারে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষার পরিবর্তে ছেলে-মেয়েরা অধো:পতনের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, নীতি-নৈতিকতার চর্চা করতে হবে।আকাশ সংস্কৃতি বা টিভি চ্যানেলঃ একটা সময় বিটিভি শুরু হতো বিকাল ৩টায়, শেষ হতো রাত ১২টায়। সপ্তাহে একটি নাটক, মাসে একটি সিনেমা প্রদর্শিত হতে। এক মহল্লায় বা গ্রামে একটি বা দুইটি টিভি দেখা যেত। বর্তমানে প্রায় সব বাড়িতে ডিশ এন্টিনার সংযোগ আছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা চলে শতাধিক চ্যানেল। আগে হাতে গোনা দুই একটি উপজেলায় সিনেমা হল চালু ছিল। জেলা শহরে চার/পাঁচটি সিনেমা হলে রুচিসম্মত সিনেমা চলত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে মানুষ বিভিন্ন ঈদ উৎসব, পূজা-পার্বনে সিনেমা হলে যেত। বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল টেলিফোন অধিকাংশ মানুষ এমনকি শিশুদের হাতেও সহজলভ্য হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়ে এই মোবাইল ফোন ভূমিকা রাখছে। ইন্টারনেট সংযোগের ফলে জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। সেবা প্রাপ্তি, বিভিন্ন তথ্য হাতের মুঠোর মধ্যে এসেছে। তাই আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ইন্টারনেট অবশ্যই ব্যবহার করতে দিবো কিন্তু সে কোন সাইটে প্রবেশ করে কি কাজ করছে সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।সিনেমা হল বন্ধ করে/ভেঙ্গে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরি: বর্তমানে অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সিনেমা হল ভেঙ্গে সেখানে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। মানুষ সিনেমা হলে না গিয়ে কি ইতিবাচাক কাজের সাথে বেশী জড়িত হচ্ছে? না, মানুষের হাতের ট্যাব, অত্যাধুনিক মোবাইল ফোনের সাহায্যে কুরুচিপূর্ণ সাইট গুলো বেশি ভিজিট করতে দেখা যায়। ইন্টারনেট থেকে এই কুরুচিপূর্ণ সেক্স রিলেটেড ইস্যু গুলো ডিলিট/বন্ধ করা উচিত বলে আমি মনে করি। সিনেমা হলের স্বল্প মাত্রার বিনোদন মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারছে না। মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সাইটের কুরুটিপূর্ণ বিনোদনে। নৈতিক অবক্ষয়ের এটি একটি বড় কারণ।শিক্ষাতথ্য: স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা পরিদর্শন কিংবা পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে যদি কখনো নকল, অনিয়ম লক্ষ্য করেন তখন কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ?মো: কামরুজ্জামান: নকল, অনিয়মের সাথে জড়িতদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও যথাযথ শাস্তির সুপারিশ করে থাকি। শিক্ষাতথ্য: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে ক্যারিয়ারভিত্তিক তথ্যনির্ভর শিক্ষাবিষয়ক পত্রিকা “মাসিক শিক্ষাতথ্য” বৃহত্তর আকারে দেশব্যাপী বের হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে দেশের যেকোনো একটি উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে বিশেষ উপজেলা সংখ্যা বের হচ্ছে; পরবর্তী সংখ্যাটি আপনার জেলার শরণখোলা উপজেলাকে ঘিরে প্রকাশিত হচ্ছে। তাই একজন পথপ্রদর্শক অভিভাবক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এ ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্যে আপনার দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শমূলক মতামত প্রত্যাশা করছি। মো: কামরুজ্জামান: দেশের শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন এবং গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নের লক্ষ্যে মাসিক শিক্ষাতথ্য পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্চক। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলে তাদের সেটা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে পারে। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পিছনের কারণ উল্লেখ করলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎসাহিত হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিজনাব মো: কামরুজ্জামান যশোর জেলার বাহিরমল্লিক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৯ সালের ১৯ জুন জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মো. নওশের আলী; একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষক এবং মাতা রোকেয়া খাতুন। তার দুই ভাই এক বোন সরকারি শিক্ষক।জনাব মো: কামরুজ্জামান এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় যশোর জেলার সদর উপজেলার সতীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ১৯৮৫ সালে কুয়াদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মনিরামপুর থেকে এসএসসি, ১৯৮৭ সালে মনিরামপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএসএস (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।জনাব মো: কামরুজ্জামান ১৯৯৭ সালের ১৩ মার্চ মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে সরকারি চাকুরীতে প্রবেশ করেন। তিনি ২০০৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের সহকারি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠ, তিনি শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ব্যক্তিত্ব। পিএসসি পরিচালিত উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জনাব মো: কামরুজ্জামান বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সহকারি জেলা শিক্ষা অফিসার পদে ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে ২০০৫ সালের ১৫ মে পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায়, ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায়, ২০১০ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত মেহেরপুর জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর জনাব মো: কামরুজ্জামান ২০১০ সালের ১আগস্ট থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং ফরিদপুরে জেলা শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। সেখানে তিনি ২০১৪ সালের ৬ডিসেম্বর পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি খুলনা আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখান থেকে চলতি বছরের ২৭ জুলাইয়ে বাগেরহাটের জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলী হন এবং অদ্যাবধি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পারিবারিক জীবনে কামরুজ্জামান এক সন্তানের জনক। তার নাম তাসনিম জামান। একমাত্র মেয়েটি ২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। বর্তমানে খুলনাস্থ সরকারি এমএম সিটি কলেজে এইসএসসিতে অধ্যয়নরত। তার সহধর্মিণী মোসা: ইসমত জাহান একজন সুগৃহিণী। |