
| Headline : |
|
আজ সনাতনী সম্প্রদায়ের বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা
প্রভাস চক্রবর্ত্তী,বোয়ালখালী।
|
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সনাতনী সম্প্রদায়ের বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা। এ দেবীর পূজা প্রায় ঘরে ঘরে অতিভ আনন্দের সাথে পালিত হয়। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এস,এস,সি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।তাই সনাতনী পরীক্ষার্থীরা সারাদিন উপবাস থেকে মায়ের পদতলে অঞ্জলি দিয়ে মাকে প্রনাম করে বলবে মা আমাদের পরীক্ষা যাতে ভালো হয়। ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম সরস্বতী পূজার উৎসব। এ উপলক্ষে বসেছে জমজমাট প্রতিমার হাট। দোকানে এবং অস্থায়ী হাটে এ সরস্বতী পূজোর প্রতিমা কেনা-বেচা হচ্ছে। উপজেলা শাকপুরা লালার হাট,কানুনগোপাড়া, হরিমন্দির,ঢাকার বিক্রমপুরের মৃত হরিপদ পালের ছেলে বাসুদেব পালের প্রতিমা অপরুপ কাজ মানুষমুগ্ধিত ও আনন্দিত। প্রতিমা, দাম সম্পর্কে বাসুদেব বলেন, এটা সম্পূর্ণ মান অনুযায়ী হয়ে থাকে। আমার এখানে ১ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত একটা প্রতিমার দাম আছে। তিনি আরো জানান প্রতিমাগুলো নিজেরাই তৈরি করি। নিজেদের দেবীকে নতুন রুপ দিতে অনেক আনন্দ, ব্যবসাটা উদ্দেশ্য না এখানে। ব্যবসার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। ফুল বিক্রেতা ববিতা নার্সারী রবি জানান আমি দামাদামি করিনা, তবে ১০০-১৫০ টাকা করে চাই। যে যা দেয় তা নিয়ে বিক্রি করে দেই। তবে ক্রেতারা এসব কিনতে খুব আন্তরিক। ১০ টাকা দিয়ে ১০টা। পূজা জন্য উপকরণ কিনতে আসা মিলি চৌধুরী জানান দেবী সরস্বতী আমাদের বিদ্যার দেবী এজন্য তার কাছে আমরা আমাদের সন্তানরা যেনো মেধাবী হয় এটাই এখন বড় কামনা। এদিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে, আমেরিকান প্রবাসী,রেমিট্যান্স যুদ্ধা সন্তোষ দে জানান। ছোটবেলায় আমরা এ সরস্বতী পূজা উপলক্ষে কতইনা আনন্দ করতাম। শিক্ষিকা ডেইজি ভট্টাচার্য্য জানান,এ পূজা উপবাস থেকে শিক্ষার্থীরা করে তা না বড়রাও অঞ্জলি দেয়। উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্ম মতে দুর্গার মেয়ে সরস্বতী। তাই মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে, সাদা রাজহাঁসে চড়ে, জ্ঞানের দেবী আসেন ধরায়। এই দিনে জ্ঞান বৃদ্ধির আশায়, উপবাসে থেকে দেবীর নামে অঞ্জলী দিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্ম মতে, বিদ্যা, জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী মা সরস্বতীর পুজো হয় মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও সকলের কাছে পরিচিত। বাঙ্গালীর প্রতিটি ঘরে ঘরে খুব ধুমধাম করে পালিত হয় সরস্বতী পূজো। সরস্বতী পূজোর নিয়মের মধ্যে, সরস্বতী পূজোর দিন সকালে উঠে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হয়। তবে পূজোর আগে শরীর ও মনের শুদ্ধির জন্য এদিন নিম ও হলুদ বাটা মাখার রীতি প্রচলিত রয়েছে। পূজোর স্থানে একটি পিঁড়ির ওপর সাদা কাপড় পেতে সরস্বতীর মূর্তি স্থাপন করে থাকেন হিন্দু ধর্মের সরস্বতী ভক্তরা। মূর্তির সামনে জলভর্তি ঘটি বসিয়ে তার ওপরে রাখতে হয় আম্রপত্র। এর পর তার ওপর পান পাতা রেখে দিতে হয়। পুজোর স্থানে একপাশে হলুদ, কুমকুম, চাল, সাদা ও বাসন্তী রঙের ফুল-মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়। এছাড়াও থাকে কুলসহ নানান প্রকারের ফল। কারণ কুলই সরস্বতী পূজোর প্রধান ফল। সরস্বতী পূজোর আগে কুল খাওয়ার রীতি প্রচলিত নেই। বরং পূজোর অঞ্জলির পরই সাধারণত কুল খাওয়া হয়ে থাকে। এবং সরস্বতী মূর্তির এক পাশে রাখা হয় দোয়াত, খাগের কলম ও বই। আমের মুকুল, পলাশ ফুল অর্পণ করবেন। সঙ্গীত বা নৃত্যশিল্পী হলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রীও মূর্তির পাশে রাখা হয়ে থাকে। এরপর সরস্বতী পূজোর মন্ত্রপাঠ পূর্ণ করে দেবীকে ভোগ নিবেদন করে থাকেন। |