
| Headline : |
|
মানবিক গ্রুপ : যে উদ্যোক্তারা মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন
।হিমু আহমেদ।
|
|
দৈনিক শিক্ষাতথ্য, ঢাকা
(০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২) :-
গত ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘মাইনুলের ইউনিফর্মের লাখ টাকার ব্যবসা এখন কোটি টাকায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখান থেকে জানতে পারি ‘ডি স্মার্ট ইউনিফর্ম সলিউশন’ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. মাইনুল হাসান শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দামে সমমানের পোশাক বানিয়ে দেওয়া ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। আমি বাংলাদেশি সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছিলাম বিধায় তার সাথে দেখা করার একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার একজন নারী উদ্যোক্তা শাপলা খান এবং তার স্বামী মুকুল খান আমাকে কুষ্টিয়ায় তাদের প্রতিষ্ঠানটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তারা কুষ্টিয়ায় গড়ে তুলেছেন ‘এমজি এগ্রো ফুড এন্ড কেমিক্যাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ই-কমার্সের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অনেকগুলো সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। এরই মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তারা এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে তারা প্রতিষ্ঠানটির ফ্যাক্টরীও গড়ে তুলেছেন এবং বিভিন্ন মেশিনারী স্থাপন করেছেন। অনেক ঝামেলা শেষ করে ১৫ জানুয়ারি আমি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। যাওয়ার পথে ঢাকার শ্যামলীতে আমি ডি স্মার্ট সলিউশন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাইনুল হাসানের সাথে দেখা করে যাই। মাইনুল হাসান শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দামে সমমানের পোশাক বানিয়ে দেওয়া ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গড়ে তোলেন প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে সাভারের একটি বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর স্কুল পোশাক বানানোর কাজ পেয়েছিল তার স্মার্ট ইউনিফর্ম সলিউশন। এরপর থেকে একটু একটু করে বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিসর। মাত্র পাঁচজন কর্মী নিয়ে শুরু করেছিলেন প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে স্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন ২৩ জন কর্মী। এ ছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে আরও ৫০০ জন কর্মী তাদের সঙ্গে কাজ করেন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ঢাকা, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, রংপুর, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নীলফামারী পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করছেন তারা। কয়েক লাখ টাকা দিয়ে শুরু করা এ ব্যবসায় এখন বিনিয়োগ প্রায় চার কোটি টাকা। তার বিপরীতে আয় পাঁচ কোটি টাকা। মাইনুলের স্মার্ট ইউনিফর্ম সলিউশন প্রতিটি স্কুল ড্রেস মাত্র ৫০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে বানিয়ে দেয়। এ ছাড়া তারা শীতের পোশাক, শু, ব্লেজার ও টাই, ব্যাগ, আইডি কার্ড, শোল্ডার ব্যাজ, এমব্রয়ডারি লোগো, টুপি, খেলাধুলার সামগ্রীসহ সব ধরনের স্টেশনারি সামগ্রীও বিক্রি করেন। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। মাইনুল হাসান খুব দ্রুতই দেশের বিভিন্ন জেলার এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন বলে আশাবাদী। ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি। মুনাফার একটি অংশ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাঁরা তাঁদের আয়ের ১০ শতাংশ অর্থ সহায়তা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেরত দেন। এ ১০ শতাংশ অর্থ চারটি ভাগে ভাগ করে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে ৬ শতাংশ অর্থ যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে। ৩ শতাংশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে। বাকি ১ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা-সেমিনার আয়োজনের খরচ হিসেবে। মাইনুল জানালেন তারা খুব শীঘ্রই স্কুল ব্যাগ তৈরিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। অচিরেই তারা স্মার্ট স্কুল ব্যাগ তৈরিতে সক্ষম হবেন। এ ব্যাগগুলোতে থাকবে একটি ডিভাইস,- যে ডিভাইসের মাধ্যমে অভিভাবকগণ ঘরে বসেই তাদের শিক্ষার্থীরা কোথায় কোন জায়গায় অবস্থান করছে তা সহজেই সনাক্ত করতে পারবেন। মাইনুলের প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে কল্যাণপুর চলে গেলাম। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার বাসে উঠে বসলাম। রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়ায় নামলাম। শাপলা খানের স্বামী মুকুল খান আমাকে সেখান থেকে তার বাসায় নিয়ে গেলেন।কুষ্টিয়ায় যাওয়ার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো কুমারখালি থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামটিও দেখে আসব। কারণ সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী প্রবাদপুরুষ ড. কাজী মোতাহার হোসেন। অবশ্য তাঁর পৈতৃক বাড়ি বর্তমান রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ মহকুমাধীন পাংশা থানার বাগমারা গ্রামে। তবে সেখানে তাঁর জন্ম হয়নি। তাঁর জন্ম হয়েছে তখনকার নদীয়া অর্থাৎ বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। সেটা ছিল তাঁর মামাবাড়ি। কুষ্টিয়া যাওয়ার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সময় পেলে আমি পরিদর্শন করব রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী, ফকির লালন সাঁইজির মাজার, টেগর লজ, পরিমল থিয়েটার, গোপীনাথ জিউর মন্দির, পাকশী রেল সেতু, লালন শাহ সেতু, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানসমূহ। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি শীতের প্রকোপ ছিল অনেক বেশি। কুষ্টিয়াতে তো শীতের মাত্রা যেন আরও কয়েক গুণ বেশি। শাপলা খানের বাসায় উঠে প্রথমেই গরম পানি দিয়ে গোসলটা সেরে নিলাম। ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে বের হয়ে গেলাম কুষ্টিয়া জেলার সিনিয়র ঠিকাদার তৌফিকুল ইসলাম ভাইয়ের অফিসের উদ্দেশ্যে।এম জি এর মানে হচ্ছে মানবিক গ্রুপ। অর্থাৎ প্রতারণার এ যুগে তারা মানবসেবায় কাজ করার সংকল্প করেছেন। তাদেরকে নিরলসভাবে সহায়তা করছেন সিনিয়র ঠিকাদার তৌফিক ভাই এবং তরুণ আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন। তৌফিক ভাই এর অফিসে বসে মানবিক গ্রুপ এর বিভিন্ন প্রোডাক্টগুলো সম্বন্ধে অনেক আলোচনা হল। তাদের উদ্দেশ্য কি এবং কিভাবে তারা তা বাস্তবায়ন করবেন সে বিষয়গুলো তারা সংক্ষেপে আলোচনা করলেন। সেদিন রাত্রে নারী উদ্যোক্তা শাপলা খানের বাসায় আতিথ্য গ্রহণ করলাম। শাপলা খান এবং তার স্বামী মুকুল খান অত্যন্ত আন্তরিক। তাদের আন্তরিক ব্যবহারে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হলাম। পরদিন সকালে মুকুল খান আমাকে তাদের ফ্যাক্টরিতে নিয়ে গেলেন। আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হলাম তাদের তিন বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ফ্যাকৃটরীটি দেখে। তারা অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুন্দর ফ্যাক্টরি গুছিয়ে নিয়েছেন। সেখানে যে যে প্রোডাক্টগুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো তিনি দেখালেন। দেখলাম অত্যন্ত মানসম্মত প্রোডাক্ট তারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। জানলাম বাংলাদেশের একজন সেরা কেমিস্ট তাদের এ প্রোডাক্টগুলো তৈরিতে সহায়তা করেছেন। এ কারণে তাদের প্রোডাক্টগুলো অত্যন্ত মানসম্মত হয়েছে। আপাতত তারা যে যে প্রোডাক্টগুলো তৈরি করেছেন সেগুলো হলো এমজি ডিটারজেন্ট পাউডার, এমজি ডিশ ওয়াশ, এমজি গ্লাস ক্লিনার, এমজি ফ্লোর ক্লিনার, এমজি টয়লেট ক্লিনার, এমজি কার ওয়াশ, এমজি বাইক ওয়াশ, এমজি লিকুইড ডিটারজেন্ট, এমজি হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি। আরো অনেকগুলো প্রোডাক্ট তৈরির কাজ চলছে। অচিরেই পাওয়া যাবে এমজি কোম্পানির বিভিন্ন গুঁড়ো মশলা, সয়াবিন ও সরিষার তেল, আটা, চিনিগুড়া ও কালিজিরা চাল, মিনিকেট চাল, বাসমতি চাল, বিভিন্ন প্রকার ডাল, মুড়ি, রবো, ললিপপ ইত্যাদিসহ একটি পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য সামগ্রী। অন্যান্য কোম্পানিগুলোর চেয়ে ১০০ ভাগ গুণগত ও মানসম্পন্ন পণ্য আমজনতার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়াই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তারা জানালেন জরুরী ভিত্তিতে এমজি কোম্পানির ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ভোক্তারা কোম্পানি থেকে সরাসরি পণ্য নিতে পারবেন, কোনো প্রকার ঝুঁকি ছাড়াই। কোম্পানির নিজস্ব ডেলিভারিম্যান এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তারা সারা দেশে তাদের পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম।মুকুল খান তাদের কোম্পানির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরলেন। তিনি জানালেন সারা দেশের ভোক্তারা সারা বছর শুধু পণ্য কিনেই যান, কিন্তু পণ্য কেনার বিনিময়ে তারা কোনো কোম্পানি বা দোকান থেকে লাভের সামান্য অংশও পান না। এক্ষেত্রে এম জি কোম্পানি একটি ব্যতিক্রমধর্মী কৌশল অবলম্বন করেছে। এমজির গ্রাহকগণ সারা বছরই পণ্য কিনতে পারবেন। পণ্য কেনার বিনিময়ে তারা পয়েন্ট অর্জন করবেন এবং সেই পয়েন্ট এর বিনিময়ে তারা কোম্পানি থেকে সারা বছরই বিনামূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন। প্রতিদিন কোম্পানির যে সেল হবে তার লাভের একটি অংশ সরাসরি ভোক্তারা পয়েন্টের মাধ্যমে অর্জন করতে পারবেন এবং ঐ পয়েন্ট এর বিনিময়ে তারা যে কোনো পণ্য বিনামূল্যে কিনতে পারবেন। আগ্রহীগণ ০১৭০৮৭০৯১৮১ নাম্বারের মাধ্যমে এমজি এগ্রো ফুড এন্ড কেমিক্যালস কোম্পানির ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। তৌফিক ভাই জানালেন- ‘এমজি ব্র্যান্ড কোন নরমাল প্রোডাক্ট ভোক্তাদের হাতে দেবে না। আমজনতার বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়ে কোম্পানিটি এগিয়ে যাবে’। সেখান থেকে মুকুল খান আমাকে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন করিয়ে নিয়ে আসলেন। ইতোমধ্যে এসে উপস্থিত হলেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘মাসিক শিক্ষাতথ্য’ পত্রিকার সম্পাদক এবং আমার সাংবাদিক বন্ধু মুহাম্মাদ তছলিম উদ্দিন। কুষ্টিয়ায় আর থাকা হলো না। তছলিম উদ্দিন আমাকে নিয়ে গেলেন তার গ্রামের বাড়িতে। উদ্দেশ্য খাঁটি খেজুরের রস এবং খাঁটি খেজুরের গুড় সারাদেশে সরবরাহ করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় কি না তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা। আমরা মধুমতি ট্রেনযোগে ঈশ্বরদী স্টেশনে নামলাম রাত সাড়ে আটটায়। সেখান থেকে অটো করে লালপুর এবং লালপুর থেকে সিএনজি করে সালামপুর পৌঁছলাম। সালামপুর থেকে তছলিম উদ্দিন এর বাড়িতে যখন পৌঁছলাম তখন রাত এগারোটা বেজে গেছে। ততক্ষণে প্রচণ্ড ঠান্ডায় আমরা দুজনই কাঁপছি। খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত বারোটা বেজে গেল। পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি তছলিম উদ্দিন এর মেজো ভাই আবু বকর সিদ্দিক সাহেব আমাদের জন্য খেজুরের খাঁটি রস নিয়ে হাজির। খেজুরের সেই রসে একটি চুমু দেয়ার সাথে সাথেই আমি শিহরিত হয়ে উঠলাম। আমার কাছে মনে হলো- আমি যেন অমৃত পান করছি। মধুর চেয়েও মিষ্টি কথাটি আমরা বিভিন্ন উপমার ক্ষেত্রে ব্যবহার করি। কিন্তু এ রস এতটাই মিষ্টি যে তা ভাষায় প্রকাশ করা এক কথায় অসম্ভব ব্যাপার। নিঃসন্দেহে যে এ রস একবার পান করেছে, সেই একমাত্র উপলব্ধি করতে পারবে এই খেজুরের রসটা কতটুকু মিষ্টি। তছলিম উদ্দিন এর বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যখন রওনা হলাম তখন দেখতে পেলাম রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন বাড়িতে খেজুরের রস দিয়ে খেজুরের গুড় তৈরি করা হচ্ছে। খেজুরের গুড়ের সেই মৌ মৌ গন্ধ রাস্তার দুইপাশ থেকে সবার নাকে এসে ধাক্কা মারছিল। আমার মনে হলো আমি যেন গন্ধ শুঁকেই খাঁটি খেজুরের গুড়ের অর্ধভোজন করে ফেলেছি। সারা দেশে এই খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড় যদি প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে দেশের আপামর জনগণ খাঁটি খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। এজন্য নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার কি এসব উদ্যোক্তাদের সাহায্য করবে যারা দেশে এরকম বিভিন্ন প্রোডাক্ট স্বল্প মূল্যে সরবরাহ করতে সক্ষম হবেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সাহায্য করার জন্য একটি ঋণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জানা গেছে সফল উদ্যোক্তাগণ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। আমার মনে হয় যদি সফল উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সরকার যদি সহজ শর্তে এ রকম ঋণের ব্যবস্থা দিতে সক্ষম হন তাহলে তারাও সারাদেশে এ রকম উন্নত পণ্য স্বল্প খরচে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন। উদ্যোক্তাদের সহায়তা করলে দ্রুত দেশে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। (himuahmed964011@gmail.com) |