
| Headline : |
|
এ কেমন সমাজ ব্যবস্থা!
লেখকঃ তীর্থংকর পন্ডিত আবীর, নটরডেম কলেজ ময়মনসিংহ
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (২১ জুন,
২০২১) :-
আইন সকলের জন্য সমান। যদিও আমরা সঠিক যায়গায় সঠিক সময়ে আইনের প্রয়োগ করতে পারি না।কারণটা হলো সেখানে আমাদের স্বার্থবাদিতা কাজ করে।বিভিন্ন রকমের আইন সংসদে পাশ করা হয় কিন্তু তা সংসদের প্রাচীর পার হয়ে বাহিরে আসতে আসতে এতোটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে তা আর তৎপরতার সহিত পালিত হতে পারে না।যদি সকল আইন সঠিকভাবে পালিত হতো তবে হয়তোবা আমাদের দেশ-সমাজ-রাষ্ট্র আরও উন্নত হতো। বর্তমানে প্রভাবশালীরা যাই করে তাই আইন আর দারিদ্র্যরা যা করে তা অন্যায় এরকম একটা ধারনা প্রচলিত আছে। আসলে কি তাই?অন্যায়কারী যেই হোক না কেন তাকে শাস্তি পেতেই হবে।আমরা কেন এতো অন্যায় দেখার পরও চুপচাপ থাকি?আসলে আমরা মনে করি অন্যায়কারী ব্যাক্তি প্রভাবশালী তাই তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।এখানেই আমরা ভুলটা করি, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তো সৃষ্টিকর্তা যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আমাদেরকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।কেন আইন মানতে এতো বাঁধা আসে? এবার আপনারা বলতে পারেন কোথায় আইন অমান্য করা হচ্ছে,এর উত্তর হলো প্রায় সকলক্ষেত্রে। আমাদের চারপাশে এতো অন্যায়, আইনের এতো অপব্যবহার করা হচ্ছে যে আমরা এগুলোকেই ন্যায়সঙ্গত বলে চিনতে শুরু করেছি। একটা কথা চিন্তা করুন তো কেন ১০ কি.মি.রাস্তা করতে ৫—৬বছর সময় লাগে?কে এর জন্য দায়ী?কেন রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পর ৫ বছরও রাস্তাটিতে ভালোভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে না?কেন রাস্তাটি দ্রুত ভেঙে যায়?উত্তরে একটা কথাই আসবে আর তা হলো দুর্নীতি।বাংলাদেশে এতো পরিমান দুর্নীতি হচ্ছে যে এটাকে আমাদের স্বাভাবিক কাজই মনে হচ্ছে।বর্তমানে সরকারি কাজে যে পরিমাণ অনুদান আসে তার বেশিরভাগই চলেযায় রাজনৈতিক কর্মীদের পকেটে।যদি কেউ এর বিরুদ্ধে যেতে চায় তো তার বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়,এ হলো আমাদের সমাজব্যবস্তা। সমাজ এক্ষেত্রে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।সড়ক আইনে বলা হয় যদি কোনো ব্যাক্তি আইন অমান্য করে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটায় তো তার শাস্তি হবে।কিন্তু একবারও কি চিন্তা করেছেন কেন সে দূর্গটনা ঘটাচ্ছেন?এখানে কি চালকই দায়ী না কি এর পেছনে সরকারের ট্রাফিক পুলিশের দ্বায়িত্ব অবহেলাও কাজ করে।যদি ট্রাফিক পুলিশ সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালন করতো তবে হয়তোবা সড়ক দুর্ঘটনা কিছুটা কমানো যেতো। সড়ক দূর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দ্বারা নির্মিত রাস্তা।এরজন্য আবার প্রশাসন দ্বায়ী, কেননা তারা সঠিকভাবে তদারকি করতে পারে না।এমতাবস্থায় আমাদের সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা কি করছে?তারা তো নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা যখন রাস্তার ফুটপাত দিয় হাঁটি তখন ফুটপাতে অনেক অবৈধ দোকানপাট দেখতে পাই।এমন কোনো আইন আছে বলে তো আমার জানা নাই যার মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট গড়তে পারে।তবে কেন তাদেরকে কিছুই বলা হয় না?তারা প্রভাবশালী বলে না কি সমাজ অন্ধ বলে?আমাদের সমাজে এমনও অনেক সন্তান আছে যারা তাদের বাবা-মা কে বাড়িতে যায়গা দেয না, ঠিকমতো খাবার দেয় না। তারপরও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের কিছুই বলে না,বরং যদি কেউ অবহেলিত পিতা-মাতাকে সাহায্য করতে চায় তবে তারা ঐ ব্যাক্তির দিকেই আঙুল তুলে। আসলে কি এমন কোনো আইন আছে? যদি এমন নিষ্ঠুর আইন থাকে তো আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি জানি আমার এই কথাগুলো কারো ভালো লাগবে না। কারন সত্য কথা কারও ভালো লাগে না।তবে আপনারা বিচার বিবেচনা করে দেখুন,বর্তমানে আমাদের সমাজে আসলে কি ঘটছে?আমাদের কথাগুলো কি সত্য না মিথ্যা তা আপনারাই বিচার করুন।যদি মানুষ হয়েও ন্যায় অন্যায় বিচার করতে না পারেন তবে আপনারা আর নিজেদেরকে মানুষ বলে দাবি কইরেন না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই রেগেযেতে পারেন তবে আমি বলছি এটাই বাস্তবতা এটাই সত্যি। পরিশেষে বলতে চাই,সত্য-মিথ্যা বিচার করে, অন্যায় কে ত্যাগ করে, ন্যায় কে সঙ্গী করে,এগিয়ে যাও দৃপ্ত পায়ে।এটাই আজকের তরুন সমাজের কাছে আমার কাম্য ।তোমরাই পারবে সমাজের বাঁধাগুলো ভেঙে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে এবং সমাজের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে। |