
| Headline : |
|
ঈদুল ফিতরের পূর্বে ১০০ শতাংশ উৎসব ভাতা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করুন প্লিজ -বাবেশিস
।।বার্তা প্রেরক:- মো. আবুল হোসেন, মহাসচিব, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটি। শিক্ষাতথ্য ডটকম।।
|
|
শিক্ষাতথ্য, ঢাকা (১৬ মার্চ,
২০২১) :-
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার জন্য দীর্ঘদিন যাবত জোর দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা আশা করি আপনি এই পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক আপনি ছাড়া আমাদের মনের দুঃখ কে বুঝবে ? পরিবার বর্গকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উৎসব আনন্দ উপভোগ করতে চাই। আমরাও মানুষ আমাদেরও আছে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার। আর কতকাল বঞ্চিত হবো পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা থেকে। আমরাও চাই পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পায় ২৫ শতাংশ আর কর্মচারীরা পায় ৫০ শতাংশ এমন বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এমপিওভুক্তির মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ২০০৪ সাল থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা চালু করা হয়। কিন্তু এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হচ্ছে উৎসব ভাতার কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করা হলো না। বর্তমানে সময়েও তা বহাল আছে। যুগের পরিবর্তন হলো কিন্তু বাস্তবতা হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রয়ে গেল এনালগ যুগে। প্রতিটি বেসরকারি এবং সরকারি পেশায় উৎসব ভাতা দেওয়া হয় মূল স্কেলের সমতুল্য টাকা কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত। বছরে মাত্র দুইটি উৎসব ভাতা দেওয়া হয় তাও আবার মূল স্কেলের ২৫ শতাংশ হারে যা বর্তমান সময়ে সত্যিই হতাশাজনক। বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছে গেছে। দেশের উন্নয়ন আজ আকাশচুম্বী। প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মাসেতু সম্পূর্ণ দৃশ্যমান। এত বড় মেগাপ্রকল্পের কাজ বর্তমানে সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে। শুধু মাত্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকায় জং ধরে গেছে। আজও পর্যন্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের হলো না কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন। নাম মাত্র উৎসব ভাতা দেওয়া হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। এ সামান্য উৎসব ভাতা দিয়ে পরিবার বর্গকে সন্তুষ্ট করাতো দূরের কথা নিজের প্রয়োজন টুকুও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আজ উৎসবের আনন্দ টুকু ম্লান হওয়ার পথে। উৎসব মানে আনন্দ এটা আজ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ভুলে যাবার উপক্রম হয়েছে। এই সামান্য উৎসব ভাতা দিয়ে কীভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করব বলুন ? বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা এবং সরকারি অংশ সহ যা পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। প্রতিটি জিনিস পত্রের মূল্যের সাথে আয় ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি । বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডাক্তার ফি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মান নিম্নমুখী। বেসরকারি এমপিওভুক্ত সিহংভাগ শিক্ষকদের বিকল্প আয়ের উৎস নেই।এই সামান্য বেতন ভাতা দিয়েই জীবন যাপন অতিক্রম করতে হয় খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে ।বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সীমিত আয় দিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে বর্তমান যুগেও। যেখানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে অপর দিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পিছিয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাচ্ছে না সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদা। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সত্যিই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অবহেলিত। আমরাও চাই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের মধ্যে যথাযথ মর্যাদা। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ রইল, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার ঘোষণা দিয়ে আমাদের পরিবার বর্গকে নিয়ে আনন্দের সাথে ঈদ উৎসব পালনের ব্যবস্থা করুন প্লিজ। ধন্যবাদান্তে মোঃ আবুল হোসেন মহাসচিব বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতি |