
| Headline : |
|
আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম
প্রধান শিক্ষক, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়
টঙ্গী, গাজীপুর
|
![]() আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম প্রধান শিক্ষক শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় টঙ্গী, গাজীপুর আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম ১৯৬০ সালের ২০ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নং ওয়ার্ডের মেঘডুবি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম-শেখ আহাদ আলী (রহ.); গৃহস্থ ছিলেন এবং মাতার নাম-আলহাজ্ব হাকিমা বেগম (রহ.); গৃহিণী ও ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তাঁরা ৯ ভাইবোন। আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় মেঘডুবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি ১৯৭১ সালে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেন। তিনি গাজীপুরের ধীরাশ্রম জি.কে. আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ভাদুন বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে ২য়বিভাগে বাণিজ্য শাখায় এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ২য় বিভাগে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞানে বি.কম (অনার্স) ডিগ্রী অর্জন করেন। জনাব শেখ আব্দুস সালাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা টিটিসি থেকে ১৯৯৬ সালে বিএড ও ২০০২ সালে এমএড (প্রশাসন) ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা ল’ কলেজ, মতিঝিল থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম ১৯৮৪ সালে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ১জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ১৭ আগস্ট থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। সেই ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যাবধি জনাব শেখ আব্দুস সালাম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন। জনাব শেখ আব্দুস সালাম বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। যেমন, তিনি মেঘডুবিতে নিজ উদ্যোগে ও স্থানীয় দু/এক জনের সহযোগিতায় নিজ অর্থায়নে “মেঘডুবি মসজিদ-এ ইল্ল্যিয়িন” প্রতিষ্ঠা করেন। একই স্থানে ২০১৩ সালে নিজস্ব অর্থায়নে একমাত্র ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত সানি কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ‘সানি ফোরকানিয়া মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। টঙ্গীস্থ ৮তলা বিশিষ্ট আধুনিক লিফট সম্বলিত ‘আব্দুর রহমান জামে মসজিদ’-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পূবাইল ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন প্রতিটি সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং ঐ কলেজের গভর্নিং বডির দুই মেয়াদে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিরের বাজার হারেজ আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। তাছাড়া মেঘডুবি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।জনাব শেখ আব্দুস সালাম সানি কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন। গরিব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের এককালীন বৃত্তি, বই কেনা, জামা-কাপড় তৈরি করার প্রয়োজনীয় টাকা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সমাজের দুঃস্থ অসহায় ও রুগ্ন ব্যক্তিদের সাধ্যমতো আর্থিক সহযোগিতা ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করে থাকেন। আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালামের এ পর্যন্ত ১৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলোর দুইটি বাদে বাকি ১২ টি একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়। বইগুলোর নামঃ ১। শিক্ষা বিকাশে শিক্ষক ২। প্রজন্মান্তর (কবিতা ও জীবনালেখ্য) ৩। আধুনিক বিজ্ঞান ও ধর্মের পরিধি (গবেষণামূলক) ৪। বিজ্ঞান কাব্য (বিজ্ঞান ইতিহাস-শুরু হতে শেষ) ৫। আত্মার বিশ্লেষণে (গবেষণামূলক) ৬। মানুষের ক্রমবিকাশ ও সভ্যতার ইতিহাস (ইতিহাস ও সভ্যতা) ৭। কবিতার রসায়ন (কাব্যগ্রন্থ) ৮। লাইফ আফটার লাইফ (অনুবাদ) ৯। ইতিহাসের বৃত্তায়ন (ভারত ও বাংলার উৎপত্তি, বিকাশ, শাসন ও বর্তমান নিয়ে) ১০। ক্ষুদ্রায়তন (কাব্যগ্রন্থ) ১১। পাশ্চাত্য গবেষণা ও বিজ্ঞানের নিরিখে আল-কোরআন (গবেষণামূলক) ১২। জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান (প্রবন্ধাবলী) ১৩। ধর্ম ও বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক নয় (গবেষণামূলক) ১৪। স্মৃতি কথা (জীবনী গ্রন্থ)। তা’ছাড়াও বিভিন্ন দৈনিক জাতীয় ও সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকায় শিক্ষা ও সাম্প্রতিক বিষয়ের উপর অনেকগুলো লেখা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ হতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হয়ে শিক্ষকদের দাবী ও অধিকার আদায়ে প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯০ সালে শিক্ষক সমিতির (আমানুল্লাহ) সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের শিক্ষক সংগ্রাম লিয়াজোঁ কমিটি টঙ্গী থানা শাখার আহবায়ক এবং পরে গাজীপুর জেলা শাখা শিক্ষক সংগ্রাম লিয়াঁজো কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন, ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আন্দোলন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে সম্মেলনের মাধ্যমে টঙ্গী থানা শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত শিক্ষাবিধ্বংসী ৪৪১ ও ৪৪২ নং প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা, এবং এর ফলে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ গঠন ও এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সালাম এখনো টঙ্গী থানার শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক জীবনে জনাব শেখ আব্দুস সালাম দুই সন্তানের জনক। প্রথম ছেলে- ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাহবুবুর রহমান সানি (রহ.) এবং একমাত্র মেয়ে শেখ ওয়ালিদা সালাম হিম; এমবিবিএস। তাঁর সহধর্মিণী নিলুফা ইয়াসমিন মনিরা; শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষিকা। |