
| Headline : |
|
লেখক পরিচিতি: মোহা: আবু সাঈদ সিদ্দিকী
সুবর্ণ সুযোগ। সুবর্ণ সুযোগ।। সুবর্ণ সুযোগ।।।
‘শিক্ষাতথ্য প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত সকল বইয়ের লেখক পরিচিতি, বই সম্পর্কে আলোচনা, বইয়ের মূল্য ও অন্যান্য তথ্য প্রকাশের জন্য তুলে ধরা হবে।
|
![]() মোহা: আবু সাঈদ সিদ্দিকী ১৯৬৪ সালের ১৫ জুন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাধীন খোলাবাড়ী চরের চরমাগুরীহাট গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা-মোহা: নুরল হক, মাতা- মোছা: কুলসুম নেছা। পিতা-মাতার ৬ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। ছাত্র জীবন অনেকের মতো মসৃণ ছিলনা। ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৭৩-৭৪ সালে পিতার সমস্ত জায়গাজমি নদীর গর্ভে বিলীন হলে পরিবারে নেমে আসে অবর্ণনীয় আর্থিক সংকট। হতে হয় বাস্তুহারা। অত:পর তৎকালীন দিনাজপুর জেলার দেবীগঞ্জ থানাধীন সোনাহার পশ্চিম মুন্সিপাড়া গ্রামে পিতা তাঁর ছোট ভাইসহ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ফলে অন্যান্য ভাই বোনের সঙ্গে তার লেখাপড়ার বিরতি ঘটে। যদিও এক বছর পর দেবীগঞ্জ এনএন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তি হন। তৎকালীন সময়ে পাঁচ কি.মি. পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়ার পথে একটি দুর্ঘটনায় পতিত হন। এমন অবস্থায় মাতাকে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেন। এভাবেই ৭ম শ্রেণিতে তিন বছর পাঠবিরতি ঘটে। পরে তার ফুফাতো ভাই খোঁচাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনরায় ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন। তিনি সেখানে সবেমাত্র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ওই স্কুলে এক বছর লেখাপড়া করার পর ৭ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ১ম স্থান লাভ করে ৮ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। ফুফাত ভাইয়ের অন্যত্র চাকুরী হলে তার একাকীত্বের কারণে বাবা-মা’র ইচ্ছায় আর এক মামাতো ভাইয়ের সহযোগিতায় দিনাজপুর জেলার ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৭৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে একই স্কুল থেকে ১৯৮০ সালে এসএসসি পাশ করে নীলফামারী সরকারি কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। ওই বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করলে প্রতিপক্ষ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের যৌথ আক্রমণে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ হয়। ফলে অনেকের মতো প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। আবারো লেখাপড়া তিন বছরের জন্য বন্ধ হয়। এ সময়ের মধ্যে সাইকেলে হাটে-হাটে কাপড়ের ব্যবসা করতে থাকেন। হঠাৎ এক বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া সহপাঠির সঙ্গে দেখা হলে বন্ধুর খোঁচামারা কথায় ব্যবসা ছেড়ে পুনরায় কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ¯œাতক শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরকারি চাকুরীতে প্রবেশ করেন। চাকুরী অবস্থায় পরবর্তীতে অনিয়মিতভাবে মাস্টার্স ও বি.এড ডিগ্রী অর্জন করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তার জন্ম তারিখের কিছু হেরফের আছে। কারণ তার ৭ম শ্রেণিতে তিন বছর পাঠ বিরতির পর লেখাপড়া শুরু করলে ৯ম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনের সময় শিক্ষকদের দেয়া এ জন্ম তারিখ। ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা ছিলনা। কেননা মাঝে-মধ্যে জীবনে নেমে এসেছে নানা সংকট ও প্রতিবন্ধকতা। তা সত্বেও বই প্রেমিক হিসেবে বই সংগ্রহ তার বড় শখ। যা চলমান আছে। তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে বহু নামী-দামী লেখকের লেখা বই সংগৃহীত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক’ বই। বই সংগ্রহ তার নেশা। একক গ্রন্থ আগে প্রকাশ না হলেও তার লেখা কবিতা, প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিষ্ঠিত কবি, সাহিত্যিকদের প্রকাশিত তিনটি যৌথ কাব্যগ্রন্থে তার অনেক কবিতা স্থান পেয়েছে। বর্তমানে তিনি কর্ম জীবনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ওপর কাজ করছেন। তিনি বিবাহিত। স্ত্রী নুরজাহান আরা সিদ্দিকী। দুই কন্যার জনক। বড় কন্যা ফাতেমাতুজ্্ জোহরা সিদ্দিকী সিফাত মেডিকেলের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে নূরে জান্নাত সিদ্দিকী বৃষ্টি ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। কর্মক্ষেত্রের সুবাদে তিনি ঠাকুরগাঁও-এ স্থায়ীভাবে বাস করছেন। |